খুলনা ভ্রমণ- কারিমা জান্নাত

খুলনা
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

খুলনা ভ্রমণ

ছোট বোনের এডমিশনের সুবাধে গত অক্টোবরে ২ দিনের জন্য খুলনায় যাওয়া। অল্প সময়ে খুলনা কে মোটামুটি খুলে ফেলেছি। শহর বড় তবে ঠান্ডা। জ্যামজট তেমন নেই, কিন্তু আবহাওয়া খুবই কনফিউজিং। এই রোদ, এই বৃষ্টি। একটা নতুন শহরে গেলে রিকশা নিয়ে অলি গলি উপশহর ঘুরতে ভালো লাগে। একটি শহরের প্রাণ থাকে তার অলিতে গলিতে, সেন্টার পয়েন্ট বেশিরভাগ শহরে একই রুপ। খুলনা তে রিকশা খুবই কম, চলাফেরা ইজিবাইক অথবা মাহিন্দ্র গুলোতে।

বয়রা বাজার সেন্টার পয়েন্ট, সেখান থেকে সব দিকে রুট। প্রথম দিন বয়রা বাজার থেকে আরাইশো বেড হয়ে (খুলনা মেডিকেল এই নামে পরিচিত) গেলাম গোল্লামারি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে। বেশ ক’টি ভাস্কর্য এবং গাছগাছালিতে ঘেরা বিল্ডিংগুলো মিলিয়ে ক্যম্পাস টা বেশ সুন্দর, গোছালো একটা রুপ যেন। ক্যম্পাসের ভেতরে হল থেকে শিক্ষার্থীরা ভ্যানে চড়ে ফ্যাকাল্টিতে যায়, ভেতরে সব ভ্যান। এই বিষয়টা গ্রামীণ একটা স্বাদ দেয়।

খুলনার দৌলতপুর সরকারি বি. এল. কলেজের নাম বেশ পরিচিত। ছিলাম পাশেই খালিশপুরে তাই এটাও বাদ দেয়নি। শ্রী ব্রজলাল চক্রবর্তী কলেজের প্রতিষ্ঠাতা (১৯০২), তার নামেই কলেজ। যদিও জমি এবং যাবতীয় আর্থিক সহায়তা করেছেন হাজী মুহাম্মদ মু্হসিন। কলেজের ভেতরে ঢুকতেই সান বাধানো বিশাল এক পুকুর, চারপাশে শিক্ষার্থীদের আড্ডা। ভেতরটা বেশ সুন্দর, পুরাতন বিল্ডিং গুলো হোস্টেল হিসেবে রয়েছে। ভেতরে একটি মসজিদ, মন্দির, শহীদ মিনার, স্মৃতিসৌধ, মুক্তিযুদ্ধ ভাস্কর্য, শতবর্ষ স্মৃতিস্তম্ভ সহ পুরো সুসজ্জিত।

খুলনা আসবো আর রুপসা ব্রিজে যাবোনা, তাই কি হয়!!
রুপসা ব্রিজের আসল সৌন্দর্য নাকি রাতের বেলা। তাই সন্ধ্যায় শিববাড়ি হয়ে খানজাহান আলী রোড দিয়ে গেলাম রুপসা ব্রিজে। নিচে রাস্তা থেকে প্রায় ৩/৪ তলার মত সিড়ি দিয়ে উঠার পর রুপসা ব্রিজ। রাতের ল্যাম্পপোস্টের নিয়ন আলোয় ব্রিজের উপর দাড়িয়ে জলের খেলা দেখা সাথে ছুটে চলা দূরপাল্লার বাস যেন এক অদ্ভুত অনুভূতির দোলা।

পরেরদিন বোনের পরীক্ষা শেষ হতেই রবীন্দ্রনাথের শশুরবাড়ীর উদ্দেশ্যে রওনা, মূল শহর থেকে কিছুটা দুরে। ফুলবাড়ি গেট থেকে যোশর রোড দিয়ে ফুলতলা, পুরো রাস্তা জুড়েই সব জুট মিলস। সেদিক দিয়ে দক্ষিণডিহী। দক্ষিণডিহী রবীন্দ্রনাথের শশুরবাড়ী হিসেবেই আমাদের সবার কাছে বিখ্যাত। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ছিলেন এখানকার রায় পরিবারের জামাতা, শ্বশুর বেনীমাধব রায় চৌধুরী। উনি ঠাকুর পরিবারের বেতনভুক্ত কর্মচারী ছিলেন। রবীন্দ্রনাথের সাথে দক্ষিণডিহীর যোগাযোগ ঘটে মামাবাড়ির সুবাদে। ঠাকুর পরিবারের আদি নিবাস মূলত এই জেলার রুপসা উপজেলার পিঠাভোগে। বর্তমানের রায় বাড়িটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অধিনে।

খাবারের মধ্যে খুলনার জনপ্রিয় হলো “চুই ঝাল”, এটাও দক্ষিণডিহীতেই পাওয়া যাবে বিখ্যাত মুসলিম হোটেলে। চুই ঝাল মূলত একটি মশলা। এটা যশোর সাতক্ষীরাতে হয়, মাছ বা মাংস রান্নায় ব্যাবহার করে। তবে খুলনায় চুই ঝাল বলতেই এই মশলা দিয়ে সুস্বাদু খাসির মাংস বোঝায়। খুলনা গেলে এটা না খেয়ে আসা ঠিক হবেনা তাই সবশেষে চুই ঝাল খেয়েই এবারের মত খুলনা ভ্রমণের ইতি টেনে দিলাম।

একটা নতুন শহরকে নিজের চোখে নিজের মত করে আবিষ্কার করতে পারাই ভ্রমণের আসল মজা।

লেখিকা – রাজশাহীর কন্যা কারিমা জান্নাত

 

©travelwithriad.com


Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *