ভারত ভ্রমন দ্বিতীয় দিন ।ফেয়ারলি প্লেস থেকে টিকিট কাটা।

দার্জেলিং
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

তারিখ মে 2, 2017
ভারত ভ্রমন দ্বিতীয় দিন। ফেয়ারলি প্লেস থেকে টিকিট কাটা রাতে ট্রেনে করে জলপাইগুড়ি যাত্রা। দিনে ঘুরাঘুরি

 

ভারতে সড়ক পথে যাত্রা এবং প্রথম দিন এই লিঙ্কে পড়ে আসতে পারেন।

ট্রেনের টিকেট কাটার জন্য ফেয়ারলি প্লেস এ যেতে হবে। আগের দিন টিকেট কাটতে পারি নাই। ফেয়ারলি প্লেস এর গার্ড বলেছিল সকাল 6 টার ভিতরে যেতে হবে। আমি ঘুম থেকে উঠলাম সকাল ছয়টায়। কিছুটা দেরি হয়ে গিয়েছিল। পিন্টু ভাই কেও ঘুম থেকে উঠালাম।

আমাদের হোটেলটা ছিল শিয়ালদা স্টেশনের পাশেই। সেখান থেকে ফেয়ারলি প্লেস বাসে যাওয়া যায়। হোটেল থেকে বের হয়ে এলাকার মানুষকে জিজ্ঞেস করলাম ফেয়ারলি প্লেস এর বাস কাউন্টার কোথায়। মানুষজন দেখিয়ে দিল। কলকাতার মানুষ সকালে ঘুম থেকে উঠে যায়। ভোরে অনেক বয়স্ক মানুষকে হাঁটাহাঁটি করতে দেখলাম। ইয়াং ছেলে মেয়ে জগিং করছে। বুঝা যায় তারা স্বাস্থ্যসচেতন।

10 রুপি বাস ভাড়া দিয়ে পাবলিক প্লেসে গেলাম। ফেয়ারলি প্লেস দারোয়ান দুইটি কাগজ আর একটি কলম নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। অফিস খুলবে সকাল দশটায়। দশটা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়ানোর কোনো দরকার নেই। কাগজে নিজের নাম আর মোবাইল নম্বর লিখে দিলেই হবে। সিরিয়াল অনুযায়ী তারা ডেকে ট্রেনের টিকিট দিবে।

কালিপুর থেকে কেন টিকিট কিনেছে সেটা নিয়ে আলাদা লেখা আছে সেটা পড়ে দেখতে পারেন।

সকাল সাতটা থেকে দশটা পর্যন্ত এখন এলাকার আশেপাশে থাকতে হবে। সকালের নাস্তা ও করা হয় নাই। পিন্টু ভাই কে বললাম চলেন আশেপাশে ঘুরি।

ফেয়ারলি প্লেস এ জায়গাটা আবাসিক না। আশেপাশের সরকারি বেসরকারি অফিস। কাই তুলনামূলক দোকানপাট কম। কলকাতার সকালে ট্রাকে করে পানি ছিটানো হয় রাস্তায়। ধুয়ে মুছে একেবারে সাফ।

এখন এপ্রিল মাস। এপ্রিল মাস মানে কলকাতার গৃষ্ম কাল। কলকাতার গরমের অনেক সুনাম আছে। একদম কাঠফাটা গরম যাকে বলে। এই গরমে বাংলাদেশের পানির হাহাকার হয়। আর কলকাতায় টনকে টন পানি দিয়ে রাস্তা ধোয়া হচ্ছে। আসলে প্রচুর পানি ফেলা হচ্ছে রাস্তা ধোয়ার সময়। সেটা আমার কাছে একটু দৃষ্টিকটু লেগেছে।

ফেয়ারলি প্লেস টা হুগলি নদীর পাশেই। হুগলি নদী আর ফেয়ারলি প্লেস এর মাঝখানে একটি রেল লাইন চলে গেছে। ছোট্ট একটি স্টেশন আছে। নাম বিবাদিবাগ স্টেশন। ষ্টেশনের দিকে হাটা ধরলাম। ফেয়ারলি প্লেস থেকে দুই মিনিটের পথ। হুগলি নদীর পাশে খুব সুন্দর করে তারা বাগান করে রেখেছে। পার্কের ছোট একটি ভিডিও 

এই হুগলি নদীর পানি পরিষ্কার। নদীর ওপারে হাওড়া স্টেশন। বিবাদীবাগ স্টেশনে পুরি ভাজা হচ্ছে। সেখানে নাস্তা সারলাম। ডাল দিয়ে পুরি। এর পাশেই বাটিতে করে ফল বিক্রি হচ্ছে। বিভিন্ন ফল কেটে কেটে একটি বাটিতে রাখা হয়। দাম 15 থেকে 20 রুপী।

বিবাদীবাগ স্টেশনের পাশে একটা পার্ক আছে। এর নাম মিলিনিয়াম পার্ক। এন্ট্রি ফি rs.10। যেহেতু সকাল পর্যন্ত এই এলাকায় থাকতে হবে তাই পার্কের টিকিট কাটলাম। সুন্দর সাজানো গোছানো একটি বাগান। পর্যাপ্ত বসার জায়গা আছে। চুটিয়ে আড্ডা দেয়ার মত একটি জায়গা। বেলা বাড়ার সাথে সাথে অনেক ছেলে-মেয়ে-পার্কে আসতে থাকলো। আমি আর পিন্টু ভাই নদীর পাশে বসলাম।

হুগলি নদীর পানি আমাদের পদ্মা নদী থেকে এসেছে। ফারাক্কা পদ্মা নদীতে বাঁধ দেয়া হয়েছে। সেই পানি ভারতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বসে বসে ভাবতে থাকলাম পানির অভাবে আমাদের বাংলাদেশ মাঠে চাষাবাদ করতে পারছ না। আর ওদের হুগলি নদীতে প্রচুর পানি। এই পানি দিয়ে তারা বিলাসিতা করছে। প্রতিদিন সকালে ট্রাকে ভরে ভরে পানি দিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করছে। তাদের শহর টা ঝকঝকে-তকতকে করে রাখছে। আর আমরা মরছি। যা হোক সেগুলো আমাদের রাজনৈতিক ব্যর্থতা। তারা তাদের দেশের ভালোর জন্য যা দরকার তা করে যাচ্ছে। তাদের দেশপ্রেম বেশি। উল্টাপাল্টা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পিন্টু ভাইয়ের সাথে কথা বলতে লাগলাম।

মিন্টু ভাইকে জিজ্ঞেস করলাম তিনি কেন ভারতে এসেছেন। তিনি বললেন নিজের চেকআপ করাবার জন্য। উনার নাকি গ্যাস্ট্রিকের অনেক সমস্যা। কলকাতায় টাটা হাসপাতালে তিনি চেকআপ করাবেন। আরও একটা কারণে তিনি কলকাতায় এসেছেন।

উনার চাচা ব্যাঙ্গালুরুতে ক্যান্সারের চিকিৎসা করাবেন। বাংলাদেশ থেকে বলা হয়েছে ওনার চাচার ক্যান্সার আছে। অপারেশন করতে হবে। কিসের ক্যান্সার আমি জিজ্ঞেস করলাম। তিনি ভালোমতো বলতে পারলেন না। ব্যাঙ্গালুরুতে উনার চাচার টেস্ট করা হয়েছে। টেস্টের রিপোর্ট তারপর তারা জানাবে কবে অপারেশন করবে। যদি অপারেশন করা হয় তাহলে তিনি কলকাতা থেকে বেঙ্গালুরু যাবেন। অনার্স চাচাকে ব্যাঙ্গালুরুতে বিমানে করে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। খরচ কমানোর জন্য তিনি সড়কপথে বেনাপোল হয়ে কলকাতা এসেছেন। এখান থেকে বিমানে অথবা ট্রেনে করে বেঙ্গালুরু যাবেন।

পিন্টু ভাই আগে থেকে জানতেন না যে টুরিস্ট কৌটায় সহজে ভারতের ট্রেনের টিকেট কাটা যায়। তিনি আমার সাথে ট্রেনের টিকেট কাটবেন। আমি যাবো দার্জিলিঙে তিনি যখন বেঙ্গালুরু। এ ব্যাপারটা আমাকে জানানোর জন্য আমাকে আলাদা ধন্যবাদ দিলেন।

আমি তাকে বললাম কলকাতায় কোন হোটেল সম্পর্কে আমার ধারণা ছিল না। আমার সাথে থাকার জন্য একটি কম খরচে হোটেল পেয়েছিলাম গতকাল। নিউমার্কেট কিংবা শিয়ালদহ সর্ম্পকেও আমার ধারনা ছিল না।

যে সময়টাতে কলকাতায় ছিলাম সে সময়টাতে আইপিএলের সিজন চলছিল। বাংলাদেশের শাকিব আল হাসান কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে খুব ভালো পারফর্মেন্স করছিল। সেই সময়টাতে হোটেল ব্যবসা রমরমা। কোন হোটেলে খালি ছিল না বলতে গেলে। কয়েকদিন পর ঈদ। ঈদের কেনাকাটা করার জন্য অনেক বাংলাদেশী কলকাতায় ভিড় করেন।

কলকাতার সকল হোটেলে বাংলাদেশীদের থাকার অনুমতি নেই। নির্দিষ্ট যারা বিদেশীদের রাখার অনুমতি আছে তারাই শুধুমাত্র বাংলাদেশিদের রাখতে পারেন। পিন্টু ভাই এর আগে একবার কোলকাতায় এসেছিলেন। তাই তিনি জানেন কোথায় সহজে হোটেল পাওয়া যায়। শিয়ালদাহ আমরা খুব কম খরচে মাত্র 400 রুপিতে হোটেল পেয়ে গেলাম।

পিন্টু ভাইয়ের পেশা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি জানালেন তিনি বিএনপি রাজনীতি করতেন। আওয়ামী লীগ সরকার আসার পর তার রাজনীতি করা বন্ধ। গাড়ি পোড়ানোর কয়েক দিন জেল খেটেছেন। জেলে থাকার কারণে তার ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে।

আবার উঠে পার্কে হাঁটা ধরলাম। সকাল 9:00 বাজতে চলল। আরকে মানুষের আনাগোনা বেড়েছে। প্রাপ্তবয়স্ক কিছু ছেলে মেয়ে পার্কে বসে আছে জোড়া জোড়া। মানুষের হাঁটা চলার পাশে তারা দৃষ্টিকটুভাবে বসে আছে। হয়তো আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি বলে আমার কাছে দৃষ্টিকটু লাগছিল। তোদের ওখানকার মানুষ হাঁটাচলা করছে কারো কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। বেশ কয়েক কপোত কপোতিকে দেখলাম একজন একজন আরেকজনকে জড়িয়ে ধরে সমানে চুমু খাচ্ছে। আশেপাশে কেউ হেঁটে বেড়াচ্ছে তার কোন খেয়াল নেই।

আমাদের দেশের ছেলেমেয়েরা পার্কে বসে এইসব করে। কিন্তু তারা কিছুটা আড়ালে থাকে। সেখানে ওরা একদম রাস্তার পাশেই যেখানে সেখানে বসে যাচ্ছে। পিন্টু ভাই গো গো করে ওদেরকে গালিগালাজ করল।

পিন্টু ভাই আমার চেয়ে বয়সে বড়। মিলেনিয়াম পার্ক থেকে বেরিয়ে আসলাম।

যেহেতু সকাল দশটায় ফেয়ারলি প্লেস এল অফিস খুলবে সে রাস্তায় হাঁটতে লাগলাম।

দশটার দিকে বেশ মানুষজন। কাগজে নাম লেখা সিরিয়াল অনুযায়ী সবাই এবার দাঁড়িয়ে আছে। টালি অফিস খোলার পরে ভিতরে বসার অনেক জায়গা। সুন্দর ছিমছাম অফিস।

অফিসে ঢোকার পর একটু ফর্ম দিল। কলকাতা থেকে কোথায় যেতে চাচ্ছি, কোন তারিখে যেতে চাচ্ছি, কয় তারিখে ফেরত আসতে চাচ্ছি, এই সকল বিষয় নিয়ে ফর্মটা ফিলাপ করতে হবে।

আর একটা টিপস দিয়ে দিই, চার্লি ফেঁসে গিয়ে যেখানে পর্যটন কোটায় টিকেট কাটবেন সে জায়গাটার নাম হচ্ছে ইস্টার্ন রেলওয়ে অফিস।

ফেয়ারলি প্লেস অর অফিসাররা খুবই হেল্পফুল। ফর্মে আমি লিখেছিলাম 2 তারিখে 4 তারিখ ফেরত আসবো।

অফিসার দেখলেন ৫ তারিখের ফেরত আসার ট্রেনের কোন টিকিট খালি নেই। ৬ তারিখের টিকেট ব্যবস্থা করে দিলেন।

কলকাতা থেকে দার্জিলিং এ ট্রেনে যেতে হলে প্রথমে জলপাইগুড়ি যেতে হয়। জলপাইগুড়ি থেকে বাসে অথবা জিপে করে দার্জিলিং যাওয়া যায়।

কলকাতা থেকে দার্জিলিং যাওয়ার ট্রেনের নাম কাঞ্চনকন্যা এক্সপ্রেস। ফিরতি পথে যে ট্রেনে আসবো সেই ট্রেনের নাম দার্জিলিং মেইল।

পাশে থাকা পিন্টু ভাই ব্যাঙ্গালোর এর ট্রেনের টিকিট কাটলেন। টিকিটের দাম নিলো rs.600। উনি rs.600 দিয়ে ব্যাঙ্গালোরের ট্রেনের টিকেট কাটতে পেরে অনেক খুশি। তিনি ভেবেছিলেন ব্যাঙ্গালুরুতে যেতে হলে শুধুমাত্র বিমানে করে যাওয়া যায়। অনেকগুলো টাকা তার সেভ হয়ে গেল।

ফেয়ারলি প্লেস থেকে টিকিট কেটে অফিস থেকে বের হতে হতে প্রায় দুপুর বারোটা বেজে গেল। রাত 10 টা 30 মিনিটে আমার আমার ট্রেন ছাড়বে। আজকের দিনটা কলকাতায় ঘোরাঘুরি করা যাবে। যদি আমার কলকাতায় ঘোরার কোন ইচ্ছাই ছিলনা। ঠিক ওভাবে খবর নেই নাই কোন কোন জায়গায় ঘোরা যায়।

কলকাতার আশেপাশে অনেকেই ঘুরতে চায়। আমার মনে হয়েছে এই মুহূর্তে আমি এই সকল জায়গায় ঘুরবো না। এখনো বিয়ে করি নাই বিয়ে করার পর বউ নিয়ে কলকাতার আশেপাশে জায়গার ঘুরবো। 🤭🤭🤭

আসলে কলকাতার অসহ্য গরম। এপ্রিল মাস মানে পুরা গৃষ্ম কাল। চারদিকে একদম কাঠফাটা গরম।

ট্রেনের টিকেট পাওয়ার পর একটু স্বস্তি পেলাম।

কলকাতায় স্ট্রীট ফুড খাওয়া:

মোবাইল বের করে গুগল ম্যাপসে ঢু মারলাম। আশেপাশে কোন জায়গায় ঘোরা যায় তা চেক করতে লাগলাম। দেখলাম আমার আশেপাশে ইন্ডিয়ান মিউজিয়াম খুব কাছেই।

আশেপাশের মানুষকে জিজ্ঞেস করলাম কোন বাসে কিভাবে ইন্ডিয়ান মিউজিয়াম যাওয়া যায়। তারা দেখিয়ে দিল হাঁটা ধরলাম। সাথে থাকা পিন্টু ভাই ও বলল চলেন ঘুরে আসি।

এইবার মনোযোগ দিয়ে আশপাশে ঘোরাঘুরি করা যাবে। শান্তিমতো খাওয়া যাবে।

প্রথমে খেলাম আখের রস। প্রতি গ্লাস 10 রুপি। আখের রসের সাথে নেমক দেওয়া হয়। আমাদের দেশ আমরা যে লবণ খায় তারা ওই লবণ একটু কম খায়। বিট লবণ কে ওরা নেমক বলে।

এরপর এক প্লেট মিক্সড ফল খেলাম। 20 রুপী।

মিন্টু ভাইকে বললাম যত ধরনের স্ট্রিটফুড হাবিজাবি খাওয়া যায় তা খেয়ে এই দিনটা পার করব। আমি হইলাম স্ট্রিটফুড লাভার। সবকিছু টেস্ট করতে হবে আজকের ভিতরে।

এক জায়গায় দেখলাম মাল্টা ফলের শরবত বিক্রি হচ্ছে। দাম জিজ্ঞেস করলাম। ছোট গ্লাস 15 টাকা বড় গ্লাস 25 টাকা। ভারতের সম্ভবত খুব কম খরচে মালটা উৎপাদন করতে পারে তারা।

একটা বড় গ্লাসের মাল্টার শরবত দিল তাতে পাঁচটা মালটা প্রয়োজন হল। দাম নিলো 25 টাকা। ওদের সেই শরবতে বিন্দু মাত্র এক ফোটাও পানি থাকে না। নেমক মিশিয়ে দেয় খেতে খুবই সুস্বাদু।

তিন জায়গা থেকে রসগোল্লা খেলাম। আসলে আমি খুবই মিষ্টি প্রিয়। মিষ্টি দেখলে আমার কোন হুঁশ জ্ঞান থাকেনা। ফেয়ারলি প্লেস এর রেলভবনের একটু দূরেই এক লোককে একটি ছোট হাঁড়িতে রসগোল্লা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলাম। তিনি এই এলাকায় শুধুমাত্র রসগোল্লায় বিক্রি করেন। খেয়ে দেখলাম খুবই সুস্বাদু।

এরপাশেই আর একজনকে দেখলাম পাকা বেলের মোরব্বা বিক্রি করছে। প্রতি পিস দশ টাকা। একটি বাড়ি থেকে নাকি 4 পিছ মোরব্বা করা যায়। খেয়ে দেখলাম খুবই সুস্বাদু।

এরপর বাসে উঠে ইন্ডিয়ান মিউজিয়াম এর দিকে পা বাড়ালাম। ভারতের লোকাল বাস গুলো অনেক পরিপাটি আমাদের দেশের তুলনায়। ভাড়াও অনেক কম মনে হয়েছে। আমাদের দেশের লোকাল বাস গুলো অনেক সময় দেখা যায় যে গাড়িতে লোকজন না থাকলে কোন একটি জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকে। ওদের ওখানে এমনটা হয় না। কোন একটি স্টপেজ এ মানুষ না থাকলে কিছুক্ষণ ওয়েট করেই চলে যায়। সর্বোচ্চ 10 থেকে 20 সেকেন্ড পর্যন্ত অপেক্ষা করে।

একটা সময় কলকাতা যানজটের জন্য খুবই বিখ্যাত ছিল। খুব কম সময়ের মধ্যে ওরা অনেক ফ্লাইওভার করেছে। মেট্রোরেল করেছে। ওদের আরেকটি পাবলিক ট্রান্সপোর্ট এর নাম হচ্ছে ট্রাম। এইখানে আমি উঠতে পারি নাই। এটা আমার একটা আফসোস রয়ে গেল। যারা এই লেখাটি পড়ছেন তারা কলকাতায় গেলে অবশ্যই একবার হলেও ট্রামে উঠবেন। ট্রামের রাস্তা গুলো একদম সড়কের মাঝখানে। টম গুলো দেখতে অনেকটা রেলগাড়ির মত। অথবা তিন বগি বৈশিষ্ট্য। কিন্তু গতি অনেক কম। মাসে এবং মেট্রোরেলে যাত্রী বেশি থাকার কারণে ট্রামের যাত্রী কমে গেছে।

ঐতিহাসিক নিদর্শন এর অংশ হিসেবে কলকাতা সরকার এখনও ট্রাম চালু রেখেছে। শুনেছি এটি বেশ ব্যয়বহুল। 18 কলকাতা সরকার ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে এই ট্রামগুলো চালু রেখেছে।

বাস ইন্ডিয়ান মিউজিয়াম এর কাছাকাছি নামিয়ে দিল। এদিকে পাশে থাকা মিন্টু হয় গরমে অস্থির। খুব সম্ভবত 36 থেকে 37 ডিগ্রী গরম হচ্ছিল। মনে হচ্ছিল 40 থেকে 42 ডিগ্রী গরম। পিন্টু ভাই বলল আমি হোটেলে গিয়ে ঘুমালে ভাল হইত। আসলে আমি অনেক বেশি হাটাহাটি করাতে উনি সম্ভবত এটার সাথে অভ্যস্ত না।

আমি বললাম এমন জায়গায় নিয়ে যাচ্ছি যেখানে অবাক হবেন। জীবনে আর কি আছে মিউজিয়ামে গেলে অনেক কিছু শিখতে পারবেন। তাকে বললাম ইন্ডিয়ান মিউজিয়াম এ মমি আছে। (আসলে নেট একটুখানি দেখেছিলাম)

কিন্তু ভাই বলল মামি তো মিশরে থাকে । আমি বললাম ইন্ডিয়ান মিউজিয়াম এ মনে আছে দেখতে পাবেন কষ্ট করে মিশরে যেতে হবে না। শুনে কিছুটা খুশি হলেন।

2017 সালে কলকাতা মিউজিয়াম এ প্রবেশ ফি ভারতীয়দের জন্য ২০ রুপি এবং বিদেশীদের জন্য দুইশ ছিল।

তবে এই লেখাটি যখন 2020 সালে লিখছি নেটে সার্চ দিয়ে দেখলাম বর্তমানে ইন্ডিয়ান মিউজিয়াম এ ভারতীয়দের জন্য প্রবেশ ফিঃ rs.50 এবং বিদেশীদের জন্য প্রবেশ ফিঃ rs.500। এছাড়াও মোবাইল সঙ্গে নিয়ে প্রবেশ করতে হলে এক্সট্রা rs.50 দিতে হবে। একশন ক্যামেরা কিংবা ডিজিটাল ক্যামেরা নিলে 2000 রুপী দিতে হবে। সেই সময়ে এত খরচ ছিলনা। আজ আমার হাতে ক্যামেরা আছে কিন্তু 2017 সালে ছিল না বিধায় একটু মনে মনে আফসোস হচ্ছে।

ইন্ডিয়ান মিউজিয়ামটা ঘুরে ঘুরে দেখলাম। অনেক সমৃদ্ধশালি মনে হলো আমার কাছে। এটি আসলে বিশ্বের যে কয়টি প্রাচীন মিউজিয়াম রয়েছে তার মধ্যে একটি। গুগলে সার্চ দেন মাথা খারাপ হয়ে যাবে এই মিউজিয়ামের কালেকশন দেখলে। বিকাল পর্যন্ত আমি মিউজিয়ামে কাটিয়ে দিলাম।

মিউজিয়াম থেকে বের হয়ে সোজা হোটেলে গিয়ে গোসল করে ফ্রেশ হয়ে নিলাম। আমার হোটেলটি শিয়ালদহ স্টেশন থেকে খুবই কাছে, একটু বিশ্রাম নিলাম। সকালে যেহেতু খুব তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠেছিলাম এবং সারাদিন যথেষ্ট হাটাহাটি করেছি একটু ক্লান্ত মনে হচ্ছিল। আর কলকাতার সেই ভয়াবহ গরম আবহাওয়া ঘোরাঘুরি করার মতো ছিল না।

রাতে স্টেশনে গেলাম। শিয়ালদহ থেকে যাবার আগে পিন্টু ভাই থেকে বিদায় নিয়ে নিলাম ।এত রাতেও শিয়ালদহ স্টেশনে প্রচুর মানুষের ভিড় দেখে অবাক হলাম। কলকাতা থেকে যারা ভারতের অন্যান্য রাজ্যগুলোতে যাবেন একটা ব্যাপার মাথায় খেয়াল রাখবেন। এই শহরের বড় স্টেশন দুটি। একটির নাম হচ্ছে শিয়ালদহ স্টেশন আরেকটি নাম হচ্ছে হাওড়া স্টেশন। শিয়ালদহ স্টেশন থেকে হাওড়া স্টেশন বেশ খানিকটা দূরে। লোকালে যদি এক স্টেশন থেকে আরেকটি স্টেশনে যেতে চান তাহলে থেকে 30 থেকে 40 মিনিট সময় লাগতে পারে। এটি আমাদের করে এই কারণে বলছি যে আমাদের বাংলাদেশের সাধারণত একটি শহরে একটি বড় রেল স্টেশন থাকে। কিন্তু সেখানে দুটি। এবং দুটি রেলস্টেশনে প্রচুর মানুষের চাপ থাকে। তাই ভারতের কোন এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাওয়ার সময় টিকিটে কোন স্টেশন কি লিখা আছে সেটি খেয়াল রাখবেন। অনেক এখানে ভুল করে থাকে।

নির্দিষ্ট ট্রেন এবং প্ল্যাটফর্ম খুঁজে পাবার জন্য সেখানে প্রচুর রেল কর্মকর্তা হেল্প করার জন্য থাকে। আমি আমার বাক ফ্রম এবং নির্দিষ্ট ট্রেনের বগি খুজতে লাগলাম। এমন সময় পাশে এক বিদেশি ভদ্রলোক এসে প্ল্যাটফর্মের নাম নাম্বার এবং ট্রেনের বগি খুঁজতে লাগলেন।

রেল কর্মকর্তারা দুজনকে বললেন আরে আপনারা তো পাশাপাশি সিট একই সময়ে খুঁজছেন। আমি বিদেশী ভদ্রলোকের দিকে তাকিয়ে হাসলাম। ইংরেজিতে তাকে বললাম চলো একসাথে ট্রেন ও ট্রেনের সিট তাহলে খোঁজ নেই। সে খুব সুন্দর হাসি দিয়ে বললো চলো। কোন দেশ থেকে সে ভারতে বেড়াতে এসেছে তা জানতে চাইলাম। সে বলল কোরিয়া, সাউথ কোরিয়া। ওর নাম হোয়েক। আমার মতই সলো ট্রাভেলার। ট্রেনের বগি সামনে আমাদের নাম প্রিন্ট করা দেখলাম। ট্রেনে উঠে পরলাম।

ট্রেনে উঠে হয়েক সাথে গল্প করতে লাগলাম। নির্দিষ্ট সময় ট্রেন ছাড়লো। যাত্রাপথে ছোটবেলার হিসেবে বিদেশে আরেকটা ট্রাভেলার পেয়ে গেলাম। আমাদের দুইজনের পরিকল্পনা একই। কোন প্ল্যান ছাড়া ঘোরাঘুরি। রাতে আড্ডাটা ভালোই জমলো। একই সাথে নেটে ঘাটাঘাটি করতে লাগলাম কোথায় কি করা যায়। দার্জিলিঙে যে চার দিন আমি ছিলাম সেই চার দিনই আমি আর হয়েক একসাথেই একই হোটেলে ছিলাম একই সাথে ঘুরে বেড়িয়েছি পরবর্তীতে। ওর মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়া সম্পর্কে অনেক কিছু জানা হল আমার। হয়েক এরও বাংলাদেশ সম্পর্কে তেমন কিছু জানা ছিল না, আমিও যতটুকু সম্ভব বাংলাদেশ সম্পর্কে পজিটিভ কিছু জানানো শুরু করলাম।


Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

2 Replies to “ভারত ভ্রমন দ্বিতীয় দিন ।ফেয়ারলি প্লেস থেকে টিকিট কাটা।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *