ভারতের প্রথম দিন

ভারতের প্রথম দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ভারতের প্রথম দিন । যেহেতু আমার বাসা চট্টগ্রামে ,আমার যাত্রা শুরু হয় চট্টগ্রাম থেকেই।

ভারতের উদ্দেশ্যে 30 এপ্রিল 2017 সালে বিকাল পাঁচটায় আমি যাত্রা শুরু করি।

আমার পরিকল্পনা হচ্ছে বাসে করে চট্টগ্রাম থেকে বেনাপোল বন্দর পর্যন্ত যাব। বেনাপোল বন্দরে কাস্টম ইমিগ্রেশনের কাজ শেষ করবো । এরপর বেনাপোল থেকে ভারতের বনগাঁ রেল স্টেশন। বনগাঁ থেকে ট্রেনে কলকাতা।

হানিফের নন এসি বাসে যাত্রা শুরু করলাম। আমি যে সময়ে যাত্রা শুরু করেছিলাম, সেই সময়টাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অনেক জ্যাম থাকতো। কারণ তখন মেঘনা নদীর উপর চার লাইনের এর সেতুর কাজ চলমান ছিল।

বাসে উঠে পাশের যাত্রী কে জিজ্ঞেস করলাম তিনি কোথায় যাবেন। আমার পাশের যাত্রী ছিল যশোরের।

আমি আশা করেছিলাম পাশের যাত্রী যদি ভারতে যায় তার সাথে কিছু আলাপ আলোচনা করা যাবে।যাহোক সে আশায় গুড়ে বালি।

কোন বন্ধু বান্ধব ছাড়া ভারতে প্রথম ভ্রমণ। একলা হওয়ার একটি কারণ আছে। তখন আমার ভ্রমণপিয়াসু যে সকল বন্ধু ছিল তারা সবাই চাকরি করতো। কেউ অফিস থেকে ছুটি নিয়ে দীর্ঘ ভ্রমণে যেতে চাচ্ছিলো না।

আমি টুকটাক তখন ব্যবসা করছি। কিছু টাকা জমা হওয়া মাত্র ভারত ভ্রমণের পরিকল্পনা করি।

যাত্রাপথে আমার একটি নতুন অভিজ্ঞতা হলো। সেটি হলো ফেরি করে নদী পারাপার হওয়া। বর্তমানে পদ্মা সেতুর কাজ চলছে। সামনের পদ্মা নদী আর ফেরি দিয়ে পারাপার নাও হতে পারে। এই ভ্রমণটা ও অনেক আনন্দের।

একেবারে একটি ফেরিতে 15 থেকে 20 টি বাস ট্রাক উঠে পরছে। এবং সেই ফেরি নদীর এপার থেকে ওপারে গাড়িগুলোকে পার করে দিচ্ছে। ব্যাপার গুলো দেখতে আসলেই চমৎকার। ফেরিতে কিন্তু রেস্টুরেন্ট থাকে। সেখানে বিভিন্ন ধরনের মাছ পাওয়া যায়। টাটকা নদীর মাছের স্বাদ সেখানে পাওয়া সম্ভব।

ফেরি পার হওয়ার সময় অনেকেই ফেরিতে সকালের নাস্তা লাঞ্চ কিংবা ডিনার সেরে নেয়।

যাহোক পহেলা মে দুপুর 12 টায় আমি বেনাপোল বন্দরে পৌঁছাই। প্রায় 19 ঘণ্টার বাস জার্নি। রাস্তায় ভয়াবহ জ্যাম ছিল। প্রথম জ্যাম ছিল ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে। দ্বিতীয় জ্যাম ছিল ফেরিতে উঠার সময়।

বেনাপোল বন্দরে তখন অনেক ভিড়। তখন বিপিএলের খেলা চলছিল। আবার কয়েকদিন পরেই রমজান মাস। একটু সময় পেলে অনেকেই ভারতে কেনাকাটা করতে যায়। রোজার আগের মাসে বেনাপোল বন্দরে অনেক ভিড় থাকে।

আমি এসব ব্যাপার আগে জানতাম না। ভারত ভ্রমণের আগে এ ব্যাপার গুলো অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে। বিশেষ করে বিভিন্ন উৎসবে ভারতের বর্ডারের অনেক ঝামেলা হয়।

বাংলাদেশের কেউ দেশের বাইরে যেতে হলে 500 টাকা ভ্রমণ কর দিতে হয়। বেনাপোল বর্ডারে ভ্রমণ কর দেয়ার সময় তারা আমার থেকে 20 টাকা বকশিশ চাইল। আমি না করতে পারলাম না। প্রথম দেশের বাইরে যাচ্ছি, ঝামেলা করতে চাইলাম না।

এরপর একটি লাইন ধরে বহির্গমন ফরম পূরণ করতে হয়। একজন এসে বলল ফরমটি ফিলাপ করে দিবে 50 টাকা লাগবে। আমি সবিনয় এর সাথে বললাম আমি পড়ালেখা করেছি, নিজের ফর্ম নিজে পূরণ করব 🤭🤭। ফরমটি নিজ হাতে পূরণ করলাম। ফর্মটি জমা দেয়ার পর একজন পুলিশ অফিসার ছবি তুলে রাখলো।

ছবি তোলার আগে আমার সামনে যে মানুষটি ছিলো তিনি চাকুরি করতেন। তার থেকে নো অব্জেকশন লেটার দেখতে চাইলো। তার সাথে না থাকার কারনে উনার পাসপোর্টে সিল দিচ্ছিলো না। আলাদা করে দাড় করিয়ে কথা বলতে লাগলো তারা। এর পর আমার পালা। একটু ঘাবড়ে গিয়েছিলাম।

বাংলাদেশের ইমিগ্রেশন অফিসার জিজ্ঞেস করলেন কেনো ভারতে যাচ্ছি। ভ্রমনের কথা বললাম। ট্রেড লাইসেন্সের ফটোকপি সাথে আছে কিনা তা জানতে চাইলো। হা বললাম । কিন্তু সরাসরি দেখতে চাইলো না।

বাংলাদেশ বর্ডার এর কাজ শেষ এরপর ইন্ডিয়ান বর্ডার এর অফিসিয়াল কাজ শুরু।

ইন্ডিয়ান বর্ডার এ সে এক বিশাল লাইন। অনেক ধাক্কাধাক্কি। এরমধ্যে একজন দালাল এসে 1000 টাকা চাইল। 1000 টাকার বিনিময়ে সে বিনা লাইনে ভারতীয় ইমিগ্রেশন অফিসের ঢুকিয়ে দিতে পারবে। আমি না করলাম।

লাইনে দাঁড়িয়ে সামনে এবং পিছনে ব্যক্তির সাথে আলাপ জমানোর চেষ্টা করলাম। সামনের জনের সাথে অতটা আলাপ জমল না। বয়স্ক একজন মানুষ তিনি তার ফ্যামিলি নিয়ে এসেছেন। এত মানুষের ভিড়ে তিনি প্রচণ্ড বিরক্ত এবং হতাশ।

লাইনে আমার পিছনে যিনি ছিলেন তার সাথে ভাব জমানোর চেষ্টা করলাম। তিনি একলাই ভারতে যাচ্ছেন। আমার সাথে কিছুটা ভাব হলো।

উনার নাম মিন্টু। থাকেন ঢাকার ধানমন্ডিতে। প্রথমে তিনি কলকাতা যাবেন। সেখানে দুই দিন অপেক্ষা করবেন। উনার এক মামা সরাসরি বিমানে বেঙ্গালুরু যাবেন। উনার মামার চিকিৎসা ব্যাঙ্গালুরুতে হবে। তিনি খরচ কমানোর জন্য সড়কপথে কলকাতা গিয়ে অবস্থান করবেন। এছাড়াও কলকাতায় নিজের শরীরের চেকআপ করাবেন।

উনি এর আগে একবার ভারতে এসেছিলেন, উনার থেকে যতটুকু সম্ভব ইনফর্মেশন নিতে থাকলাম।

উনার সাথে কথা বলতে বলতে ভারতীয় ইমিগ্রেশন পার হলাম। বর্ডারে টাকাকে রুপিতে কনভার্ট করে নিলাম।

ইমিগ্রেশন এ কিছু প্রশ্ন করে থাকে। সেগুলোর ভালো তার জবাব দিলে অনেক সময় ভারতে যেতে দেয় না। আবার ইমিগ্রেশন অফিসারের কথা ঠিকমত জবাব দিতে না পারলে ফেরত দেওয়ার সময় অনেকে বকশিশ দিতে হয়। ভারতের ইমিগ্রেশন এ কি কি ঝামেলা হতে পারে সেটা নিয়ে আমি আলাদা একটি লেখা দিব। কি কি সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে সেটাও আমি লিখব।

আমার পরিকল্পনা ছিল বর্ডার পার হয়ে সোজা ফেয়ারলি প্লেস এ চলে যাব। ফেয়ারলি প্লেস থেকে ট্রাভেল কোটায় ভারতের যেকোনো জায়গার ট্রেনের টিকেট পাওয়া যায়। 1 তারিখ রাতেই আমার দার্জিলিং যাওয়ার প্ল্যান ছিল।

বর্ডার পার হতে হতে আমাদের দুপুর তিনটা বেজে যায়।

সাথে থাকা মিন্টু ভাই বললেন আজকে ট্রেনের টিকেট নাও পেতে পারি। হয়তোবা আমাকে কলকাতায় থেকে যেতে হতে পারে।

বেনাপোল বর্ডার থেকে বনগাঁ স্টেশন এর জন্য শেয়ার সিএনজিতে উঠি। প্রতি জন 30 টাকা।

বর্ডার পার হওয়া মাত্রই ভারতের পরিবেশ অন্যরকম। দেখলাম মেয়েরা শাড়ি পড়ে সাইকেল চালাচ্ছে। আমি তখন ভাবছিলাম, আমি লুঙ্গি পরে বাইক চালাইতে পারি না, আর ওরা কি সুন্দর সাইকেল চালাচ্ছে । একবার চেষ্টা করেছিলাম। কেমন জানি অনেক আনইজি লাগে। কিন্তু এই মহিলারা শাড়ি পড়ে সাইকেল কিভাবে চালাচ্ছে ??

সিএনজির সামনে ড্রাইভার এর পাশে আমি বসে ছিলাম। ড্রাইভার ভাই আমাকে জিজ্ঞেস করলো কোথায় যাচ্ছি। বললাম দার্জিলিং যাব। শুনে তিনি বলল এই গরমে দার্জিলিং কেন যাবেন। দার্জিলিং যেতে হয় শীতকালে। আমি শুধু শুধুই এই সময়ে দার্জিলিং যাচ্ছি।

আমি ড্রাইভারকে জিজ্ঞেস করলাম আপনি কি কখনো দার্জিলিং গিয়েছিলেন?

ড্রাইভার সাহেব বললেন না তিনি যান নাই, লোকমুখে শুনে ছিলেন।

তো আমি বললাম, তাহলে গিয়েই দেখি কি হয়। উনি বললেনঃ বললাম ইংরেজরা গরমের সময় কিছুটা ঠান্ডা আবহাওয়ার জন্য এতটা কাঠ-খড় পুড়িয়ে দার্জিলিং আসতো।

দার্জিলিং এ যাওয়ার এটাই উৎকৃষ্ট সময়। গরমকালে ওখানে প্রচুর ঠান্ডা। একটা ব্যাপার দার্জিলিংয়ের কোন হোটেলে আপনি এসি পাবেন না। কারণ ওখানে এমনিতেই রাতে প্রচুর ঠান্ডা পড়ে। এমনকি ওখানকার হোটেলগুলোতে কোন সিলিং ফ্যান নেই। দার্জিলিং নিয়ে ভাবতে ভাবতে বনগায় স্টেশনে চলে আসলাম। বেনাপোল থেকে বনগাঁ স্টেশন রোড টা অনেক চমৎকার। তারা বিশাল বিশাল গাছকে না কেটে রাস্তা বানাচ্ছে। ব্যাপারটি অনেক ভালো লেগেছে আমার কাছে।

বনগাঁ স্টেশনে এসে শিয়ালদা স্টেশনের টিকিট কাটলাম। 25 রুপি ভাড়া । আমি আমার জন্য আর সাথে থাকা মিন্টু ভাইয়ের জন্য টিকেট কাটলাম। এরমধ্যে মিন্টু ভাই বলল চলেন একসাথে থাকি। কারণ শিয়ালদা যেতে যেতে সন্ধ্যা হয়ে যাবে। আমি বললাম আমি রাতের দার্জিলিং এর ট্রেনের টিকেট পেলে দার্জিলিং চলে যাব। তিনি আবারও বললেন দার্জিলিং যেতে পারব না।

বনগাঁ স্টেশন থেকে যে লোকাল ট্রেনটি ছাড়ে তার শিয়ালদা স্টেশন পর্যন্ত যায়। ট্রেন ভ্রমণ আমার খুব ভালো লাগে। অনেক রকমের মানুষের সাথে আড্ডা দেয়া যায়। বিভিন্ন রকমের মানুষের কার্যকলাপ দেখা যায়। এই ট্রেনটি ইলেকট্রিক ট্রেন। রেললাইনের উপরের দিকে তার লাগানো থাকে। সেখান থেকে ইঞ্জিন পাওয়ার পায়। ওদের লোকাল ট্রেন গুলো খুবই দ্রুতগতিসম্পন্ন। কিছুক্ষণ পর পর একেকটি স্টেশনে দাঁড়াচ্ছে। একটি স্টেশনে মাত্র 30 সেকেন্ড অপেক্ষা করে। এর মধ্যেই হুড়মুড়িয়ে যাত্রী উঠানামা করে।

আমাদের ট্রেনটি যেহেতু বনগাঁ স্টেশন থেকে যাত্রা শুরু করে, প্রথমে অতটা ভিড় ছিল না। আস্তে আস্তে ভিড় বাড়তে লাগলো। প্রথম একটু রিলাক্স মুডে বসেছিলাম। ব্যাগটা সাথে রেখেছিলাম। ভিড় বাড়ার কারণে সাথে থাকা ব্যকপ্যাকটি মাথার উপরে ব্যাগ রাখার জায়গায় রাখলাম । চতুর্থ পঞ্চম স্টেশনে এত মানুষ বাড়লো, দু পা রাখার জায়গাতে মানুষ দাঁড়িয়ে আছে।

এই লোকাল সার্ভিসে প্রচুর হকার। এটা-সেটা অস্বাস্থ্যকর জিনিস বিক্রি হচ্ছে। আমি কিছু কিনলাম না। এই মুহূর্তে আমার পাশে অল্প বয়সী দুটি ছেলে মেয়ে উঠেছে। সম্ভবত কোচিং শেষে বাসায় যাচ্ছে। কলেজে পড়াশোনা করে এমন বয়স। অন্যদিকে তাকিয়ে তাদের কথায় মন দিলাম। তাদের আড্ডার বিষয়বস্তু হচ্ছে, কলেজে কে কার সাথে প্রেম করছে। কেউই কারও সুনাম করছে না। শুধুমাত্র কে কি নিয়ে ঝামেলায় আছে সেগুলো নিয়ে আলোচনা, খুনসুটি, হাসাহাসি। কিছুক্ষণ পর তারা নেমে গেল।

আমি ট্রেনের বাইরের দৃশ্য অবলোকন করতে লাগলাম। বনগাঁ থেকে শিয়ালদহ রেল লাইনের পাশের পরিবেশ গুলো দেখতে লাগলাম। আমাদের দেশের মতো অত সবুজ না। মাঠ গুলো কেমন যেন রুক্ষ মনে হল। ট্রেন আস্তে আস্তে শহরের দিকে যেতে লাগল। রেল লাইনের দুই পাশে প্রচুর বস্তি, আগোছালো। আমার কাছে অতটা ভালো লাগেনি। আমাদের দেশই অনেক সুন্দর।

অবশেষে শিয়ালদহ স্টেশনে নামলাম। বিশাল স্টেশন। অনেক মানুষের ছোটাছুটি। অনেকগুলো ট্রেনের প্ল্যাটফর্ম। আমার কাছে মনে হল, বাংলাদেশের কমলাপুর স্টেশন থেকে কম হলেও পাঁচ গুণ বড় হবে।

স্টেশন থেকে বের হতেই চা-নাস্তা সেরে নিলাম। ওখানকার চা গুলো মাটির কাপে। মাটির ওয়ান টাইম কাপ। মানুষজনকে জিজ্ঞেস করে ফেয়ারলি প্লেস এর বাসে উঠলাম।

ভারতের যাতায়াতের জন্য ট্রেন হচ্ছে সবচেয়ে কম খরচে। তাই এর টিকেট সহজে পাওয়া যায় না। ভারতের সরকার ট্যুরিস্টদের সুবিধার জন্য আলাদা টিকিট কোটা রেখেছে। শুধুমাত্র ট্যুরিস্টরা ভ্রমণের আগের দিনেও এই কোটায় টিকিট পেতে পারেন। কলকাতায় এই টিকেট পাওয়া যায় ফেয়ারলি প্লেস এ। আমি প্রথমে মনে করেছিলাম ফেয়ারলি প্লেস একটি রেল স্টেশন। আসলে তা না। এটি স্টেশন থেকে অনেক দূরে আলাদা একটি রেলওয়ে অফিস।

ফেয়ারলি প্লেস এ যেতে যেতে সন্ধ্যা সাতটা বাজলো। সেখানে গিয়ে জানলাম ফেয়ারলি প্লেস বিকেল পাঁচটায় বন্ধ হয়ে যায়। টুরিস্ট কোটায় টিকিট কাটতে হলে আগামীকাল সকাল ছয়টায় এসে লাইন দিতে হবে। তাহলে টিকিট পাওয়া সম্ভব।

খবর নিয়ে জানলাম আটটার পর কোলকাতা থেকে দার্জেলিং এ যাবার জন্য শিলিগুড়ির বাস ও ছাড়ে না।

সাথে থাকা মিন্টু ভাই বলল আপনাকে বলেছিলাম ট্রেনের টিকেট পাবেন না। চলেন দুই ভাই মিলে একসাথে হোটেলে উঠি। তিনি জিজ্ঞেস করলেন কোন হোটেলে উঠবো। আমি বললাম কম খরচে যে কোন হোটেল। তিনি জিজ্ঞেস করলেন নিউমার্কেট এলাকায় কিছু হোটেল আছে আবার শিয়ালদহ স্টেশন এর আশেপাশে কিছু হোটেল আছে। কোথায় যাব।

ফেয়ারলি প্লেস পাশে একটি হোটেল আছে সেখানে গেলাম। সেই হোটেল কতৃপক্ষ যখন জানলো আমরা বাংলাদেশ থেকে এসেছি, রুম খালি থাকা সত্ত্বেও আমাদের কোন রুম দিল না। বলল যারা দেশের বাইরে থেকে আসে তাদের জন্য আলাদা হোটেলের লাইসেন্স লাগে। তা তাদের নেই।

মিন্টু ভাই বলল শিয়ালদার আশেপাশে কম খরচে হোটেল পাওয়া যাবে। সেখানে গিয়ে আমরা একটি হোটেলে উঠলাম। ডাবল বেড ভাড়া 400 রুপি। আমি উনার সাথে একই রকম শেয়ার করতে কোন সমস্যা বোধ করলাম না।

হোটেলে উঠতে উঠতে অলমোস্ট রাত দশটা বেজে গেল। হোটেল কর্তৃপক্ষ বলল এত রাতে এখানে নাকি কোন রেস্টুরেন্ট খোলা থাকবে না। আমি আর মিন্টু ভাই বের হলাম, একটা ঝুপড়িতে রুটি বানাচ্ছে । ডাল সবজি রুটি খেলাম। খাওয়া শেষে একটু হাঁটাহাঁটি করে হোটেলে ফিরে আসলাম। আশপাশের সব বন্ধ হয়ে গেছে ততক্ষনে।

পরদিন ভোরে উঠে ফেয়ারলি পেজে যেতে হবে টিকিট কাটতে হবে। মিন্টু ভাইয়ের সাথে আড্ডা দিতে দিতে ঘুমিয়ে গেলাম। এভাবেই ভারতের প্রথম দিন কেটে গেলো।

ভাবতে লাগলাম, পরিকল্পনা ছিলো আজকে ট্রেন অথবা বাসের টিকেট কেটে দার্জেলিং যাবো। কিন্তু অচেনা এক নতুন বন্ধুর সাথে রাতে একই রুমে কোলকাতার হোটেলে ঘুমাচ্ছি। মিন্টু ভাইকে জিজ্ঞাস করলাম ভাই, আমার মতো অচেনা মানুষের সাথে ঘুমাইতেসেন যে, আপনার ভয় লাগতেসে না??? দেখি উনি এক কড়া ঘুম দিচ্ছেন।

ভারত ভ্রমন দ্বিতীয় দিন । ফেয়ারলি প্লেস থেকে টিকিট কাটা।

কোলকাতা থেকে দার্জেলিং ভ্রমণ। ভারতে তৃতীয়দিন।

ভারতে ৪র্থ দিন দার্জেলিং চা বাগান – হিমালয়ান রেল

ট্রাভেলিং নিয়ে আমার একটি নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল আছে এখানে লিংক দিলাম।

এছাড়া ফেসবুকে আমাদের একটি Group আছে যেখানে আমরা সবাই একসাথে ঘুরাঘুরি করি এর লিংক দিলাম যে কেউ আমাদের সাথে জয়েন করতে পারেন।

 


Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •