ভারতে ৪র্থ দিন দার্জেলিং চা বাগান – হিমালয়ান রেল

হিমালয়ান রেল
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ভারত ভ্রমনের চতুর্থদিন ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য হিমালয়ান রেল স্টেশন ও ২০০ বছর পুরনো হ্যাপি ভ্যালি চা বাগান ভ্রমণ

4 এপ্রিল 2017
আজকের দিনের সকালের প্ল্যান ছিল কাঞ্চনজঙ্ঘা যাব। সকাল চারটায় উঠলাম। ঘুম থেকে কোরিয়ান বন্ধু হোয়েককে উঠালাম। হোটেল থেকে বের হলাম ভোর 4 টা 15 মিনিটে। পাশের রুমে থাকা গতকালের পরিচয় হওয়া আরেক দক্ষিণ কোরীয় বন্ধু কিম কে ও রুম থেকে ঘুম থেকে উঠলাম।

পড়িমড়ি করে খুব দ্রুত হাঁটা লাগালাম। ভোর ৪টা ৩০ মিনিটে জিপি স্ট্যান্ডে চলে এলাম। কিন্তু ততক্ষণে মোটামুটি জিপ স্ট্যান্ড খালি হয়ে গিয়েছে। সবগুলো জিপ ছেড়ে গিয়েছে। জিপি স্ট্যান্ড থেকে একটু পাসে একটা কার পেলাম। কার এর ড্রাইভারকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার জন্য টাইগারহিল যাবে কিনা জিজ্ঞেস করলাম। সে বলল এখন গিয়ে লাভ হবে না। আমরা অনেক দেরি করে ফেলেছি। আরো আগে যেতে হবে। এখন যদি আমরা যাই তাহলে সুর্যদয় মিস করবো।

কি করব তখন ভেবে পাচ্ছিলাম না। আমরা একজন আরেকজনের মুখ দেখাদেখি করতে লাগলাম। এমন সময় এক ব্রিটিশ ভদ্রলোক জিপ স্ট্যান্ডে এসে হাজির হলেন। সাথে একটি মেয়ে আছে।

ব্রিটিশ ভদ্রলোকের সাথে মেয়েটির  কি সম্পর্ক সেটা বুঝার চেষ্টা করলাম। উনার সাথে থাকা মেয়েটি অনেকটা চাইনিজ টাইপের। সুন্দরী না কিন্তু ওয়েস্টার্ন ড্রেস পরিহিত।  দেখতে ভালই লাগছিল।

আমরা তিনজন দেরী করে ফেললাম দেখে, একজন আরেকজনের সাথে আলোচনা করতে লাগলাম এখন এত ভোরে কি ধরনের ট্যুর প্ল্যান করা যায়। কিম বলল সে এত ভোরে কোথাও ঘুরতে যেতে রাজি না। হোয়েক বললো চলো সকালের দার্জিলিং সিটি টা ঘুরে বেড়াই। দুইজন দুইটা মতামত দিল। এরপর দুজনেই আমার দিকে তাকিয়ে থাকলো, ব্যাপারটা এমন আমি যেটা বলি সেই দল ভারী হবে। আমি যদি বলি ঘুমাবো তাহলে হোটেলের দিকে যাব। আর যদি বলি ঘোরাঘুরি করব তাহলে তিনজনেই এলাকাটা ঘুরবো এই অবস্থা।

এমন সময় সেই ব্রিটিশ ভদ্রলোক আমাদের কাছে এলেন। হেসে হেসে বললেন আপনারাও কি কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার জন্য টাইগার হিল যাওয়ার ট্রিপ মিস করেছেন? হেসে বললাম হ্যা আমরা অনেক লেজি। তিনি জিজ্ঞেস করলেন আমরা আগে থেকে পরিচিত কিনা। আমি তখন বললাম দার্জিলিঙে এসেই আমাদের ফ্রেন্ডশিপ হয়েছে। তিনিও আমাদের সাথে জিপি স্ট্যান্ড আড্ডায় যোগ হলেন। মেয়েটি পিছনে দাঁড়িয়ে আছে।

আমি প্রথমে ভদ্রলোককে জিজ্ঞেস করলাম তিনি কোথা থেকে এসেছেন, জবাবে তিনি বললেন গ্রেট ব্রিটেন। একে একে আমি হোয়েক, কিম সবাই সবার সাথে পরিচিত হলাম।

এরপর আমি ব্রিটিশ ভদ্রলোকের সাথে থাকা মেয়েটির দিকে তাকালাম। ব্রিটিশ ভদ্রলোক বুঝতে পেরেছেন আমিও উনার সাথে থাকা মেয়েটির পরিচয় জানতে চাচ্ছি। তিনি পিছন থেকে মেয়েটিকে ডেকে বললেন এটা আমার স্ত্রী !!!

আমি এবার রীতিমত টাশকি খেলাম। বয়সের অর্ধেক বয়সী সে কিনা তার স্ত্রী। মেয়েটি ইংলিশ পারেনা ভদ্রলোক নিজেই বললেন। একই সাথে বললেন মেয়েটি থাইল্যান্ডের অধিবাসী। আরও বললেন তিনি বর্তমানে থাইল্যান্ডের থাকেন সেখানেই তিনি বিয়ে করেছেন।

ব্রিটিশ, আমেরিকা এবং ইউরোপের অনেক নাগরিকই বর্তমানে চাকরি কিংবা ব্যবসায় শেষে থাইল্যান্ড কিংবা ফিলিপাইনে পাড়ি জমান। শেষ বয়সটাতে নতুন কচি মেয়ে বিয়ে করে সেখানেই ফুর্তি করে বেড়ান। এমন অনেক ফিচারই আগে অনলাইনে এবং পেপারে পড়েছিলাম। দার্জিলিঙে এসে সেই ভদ্রলোককে সরাসরি দেখলাম।

ব্রিটিশ ভদ্রলোক আমাদের প্ল্যান জানতে চাইলেন। আমি ভেবে দেখলাম এত সকালে রাস্তায় কুত্তা ছাড়া আর কিছু নাই। কোন একটা ঝামেলা হয়ে গেলে তখন কি করব। যদিও দার্জিলিং শহর অনেক সেইফ। তারপরও সাবধানের মাইর নাই। এর আগের রাতেও খুব বেশি ঘুমানো হয় নাই। ভাবলাম হোটেলে গিয়ে একটু ঘুম দেই এরপর সারাদিন দার্জিলিং এর আশেপাশের বিভিন্ন স্পট ঘুরে দেখা যাবে।

আমি তখন বললাম হোটেলে ফিরে এসে একটা ঘুম দেই ভালো হবে। আমার কথা শুনে ব্রিটিশ ভদ্রলোক সায় দিলেন। বললেন এখন কিছুই খোলা নাই সব দোকানপাট বন্ধ, এই ঘুমন্ত শহরে ঘুরে লাভ নেই।

কিম এবং হোয়েক আমার কথায় সায় দিল। এরপর আমরা ব্রিটিশ ভদ্রলোকের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে হোটেলের দিকে আবার রওনা দিলাম। এমন সময় টেক্সি ড্রাইভার পিছন থেকে আমাদেরকে ডাক দিল।

সে বলল আগামীকালকে আমরা টাইগারহিল যাব নাকি। আমি বললাম হ্যা আগামীকাল টাইগারহিল যেতে পারি। সে বলল টেক্সি আগামী কালকের জন্য বুকিং দিয়ে রাখা যাবে। সে সকালে ঘুম থেকে হোটেলে গিয়ে উঠিয়ে নিয়ে আসবে। আমি আবার কোন নিয়মের মধ্যে থাকতে চাই না। বিনয়ের সাথে থাকে না বললাম। এটা বললাম যে কোন সময় প্ল্যান চেঞ্জ হতে পারে তাই এখন কনফার্ম করতে চাচ্ছি না।

হোয়েকও বলল আগে থেকেই রিজার্ভ করার দরকার নেই। অ্যাডভান্স বুকিং দিলে পরে টাকা মাইর যাবে। হোটেলে ফিরে আসলাম।

হোটেলে ফেরার সময় প্লান করতে লাগলাম আজকের সারাদিন কি করব। কিম তার মোবাইল থেকে একটি লিস্ট বের করলো। কিম দার্জিলিং হিমালয়ান রেল স্টেশন যেতে চায়। হোয়েক বলল সে চা বাগানে ঘুরবে। আমি বললাম আমি মুভি দেখতে চাই। তারা বলল এখানে এসে মুভি কেন দেখব। সেই সময়ে বাহুবলী টু চলছিল।

বাহুবলী 2 সিনেমা বড় পর্দায় দেখার জন্য আমি উদ্গ্রিব ছিলাম । ভারতে গিয়েছি আর সিনেপ্লেক্স গিয়ে বাহুবলী টু দেখব না সেটা কেমনে হয়। বাহুবলী প্রথম পর্ব দেখার পর দ্বিতীয় পর্বের দেখার জন্য অনেক দিনই অপেক্ষা করেছিলাম। আমি তাদেরকে বুঝিয়ে বললাম বাংলাদেশে ভারতীয় মুভি সিনেপ্লেক্সের দেখানো হয় না। আমাদের দেশে ভারতীয় মুভি আমদানি নিষিদ্ধ। বঙ্গবন্ধু এই ভারতীয় মুভি বাংলাদেশ প্রচার করা নিষিদ্ধ করেছিলেন। সেই সময় বঙ্গবন্ধু একটা কাজের কাজ করে গিয়েছিলেন। বাংলাদেশে না হয় বর্তমানে ভারতীয় মুভির জয়জয়কার থাকতো অনেক পয়সা বিদেশে চলে যেত। যাহোক আমি ভারতে গিয়ে ভারতীয় মুভি দেখছি বাংলাদেশের টাকা ভারতে চলে গেল।

তাহলে আমাদের প্ল্যান সেট হয়ে গেল। সকালে হ্যাপি ভ্যালি টি গার্ডেন যাব। হ্যাপি ভ্যালি টি গার্ডেন ভারতের দার্জিলিং এর সবচেয়ে পুরাতন চা বাগান।

আরো একটা ব্যাপার আমার মাথায় রাখতে হবে যে আগামীকাল বিকাল পাঁচটায় শিলিগুড়ি থেকে কলকাতা যাওয়ার ট্রেনের টিকেট কাটা আমার। তাই আজকের দিনটা ঘুরাঘুরি করতে পারব আর আগামীকাল সকালে কিছুটা ঘুরাঘুরি করতে পারব।

সকালে শীতে ঠকঠক করে কাঁপতে লাগলাম। দার্জিলিং এর সকালে তাপমাত্রা দেখলাম 7 ডিগ্রী সেলসিয়াস। সেই সময়টাতে বাংলাদেশে প্রায় 32 ডিগ্রি সেলসিয়াস চলছিল।

এক দিক দিয়ে ভালোই হলো জ্যাকেট সাথে নিয়ে আসতে ভুলে গিয়েছিলাম। এতো ঠান্ডায় কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার জন্য টাইগার হিলে গেলে খবর হয়ে যেত। হোয়েক আমাকে জিজ্ঞেস করল খুব বেশি ঠান্ডা লাগছে কিনা। আমি বললাম হ্যা। সে আমার অবস্থা দেখে হাসতে লাগল। বলল দক্ষিণ কোরিয়ার ঠান্ডা আরো অনেক বেশি। এখানকার আবহাওয়া তার থেকে অনেক ভালো লাগছে। কিম আর হয়েছে দুইজনেই শুধুমাত্র টি-শার্ট পরে বের হয়েছে। হোয়েককে এই যাত্রার শুরু থেকেই হয়েছে দেখলাম হাফপ্যান্ট পড়ে ঘুরতে।

হোটেলে এসে ঘুম দিলাম। এরমধ্যে কিম জানালো সে এর আগে চা বাগানে ঘুরে এসেছে সে একটু বেশি করে ঘুমাবে। আমরা চা বাগান ঘুরে আসলে সে এরপর আমাদের সাথে দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে স্টেশন দেখতে যাবে।

দার্জিলিং হিমালয়ান রেল স্টেশনটি ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য মর্যাদাপ্রাপ্ত একটি রেলওয়ে স্টেশন। এই রেলস্টেশনটি 1888 সালে উদ্বোধন করা হয়। ইংরেজরা এই ভারতীয় উপমহাদেশে রেল এর নেটওয়ার্ক অনেক বিস্তৃত করে গিয়েছিল। ইংরেজরা এই ভারতীয় উপমহাদেশের অনেক ক্ষতি করলেও রেললাইনের নেটওয়ার্কটি পরবর্তীতে তিনটি দেশেই অনেক কাজে লেগেছে। আমাদের বাংলাদেশে এই বিংশ শতাব্দীতে এসেও ইংরেজদের করা সেই রেললাইনের নেটওয়ার্ক এর উপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছে।

হোটেলে এসে ঘুম দিলাম। ঘুম থেকে উঠলাম সকাল সাতটা বাজে। ম্যানেজারকে গরম পানি দিতে বললাম গোসল সেরে নিলাম। গোসল সেরে রেডি হয়ে হোটেল থেকে বের হতে প্রায় আটটা বেজে গেল। আমি আর হোয়েক হ্যাপি ভ্যালি টি গার্ডেনের উদ্দেশ্যে হাঁটা ধরলাম।

গুগল ম্যাপে দেখলাম আমাদের হোটেল থেকে হ্যাপি ভ্যালি টি স্টেট এর দূরত্ব 2.2 কিলোমিটার। হোয়েক জিজ্ঞেস করল গাড়ি নিব কিনা। আমি বললাম আমি হেঁটে হেঁটে এলাকাগুলো এক্সপ্লোর করতে চাই। সেও বললো তাই ঠিক চলো হেঁটে হেঁটে এলাকাটা ঘুরে বেড়াই। হোটেল থেকে বের হয়ে একটু দূরে গান্ধী চত্বরে আসামাত্রই বৃষ্টি শুরু হয়ে গেল। দার্জিলিংয়ের যে তিনদিন থেকে ছিলাম একই সমস্যা। যখন তখন নাকি এখানে বৃষ্টি শুরু হয়ে যায়। বৃষ্টির কোন আগামাথা নেই। কিছু করার নাই একটি জায়গায় নিজেরা দাঁড়িয়ে থাকলাম। বৃষ্টি বন্ধ হওয়ার অপেক্ষা করতে লাগলাম। প্রায় আধাঘণ্টা পর বৃষ্টি থেমে গেল। হ্যাপি ভ্যালি টেস্টে যাওয়ার সময় অনেকগুলো দোকান চোখে পড়ল। যেখানে কানটুপি শাল সহ মেয়েদের জিনিসপত্র বেচাকিনা হচ্ছিল।

আমি একটি কানটুপি কিনলাম 130 রুপি দিয়ে। কানটুপি টি প্রথমে 250 রুপি চেয়েছিল। আমি প্রথমে rs.100 বললাম। 100 রুপি বলাতে দোকানদার একদম মুখ কালো করে ফেলেছিল। পরে আমি বললাম কত দিবেন। সে শেষমেষ বলল ফিক্সট 130 রুপি। দার্জিলিংয়ের ঘুরাঘুরি করার সময় এসব দোকানে অনেক দামাদামি করে নিতে হয়। শুধু দার্জিলিং না বাংলাদেশ এবং ভারতীয় যেকোনো ফুটপাতের দোকানদারের সাথে দামাদামি করতে হয়।

টুপি কেনার পরে হোয়েক আমাকে বলল আমি নাকি খুব ভালো দামাদামি করতে পারি। যাহোক আমরা আবার হ্যাপি ভ্যালি টেস্টের দিকে যেতে লাগলাম। এর মধ্যে কয়েকজনকে জিজ্ঞেস করলাম হ্যাপি ভ্যালি টি স্টেটে যাবার রোড কোনটি। স্থানীয় অনেকে আমাদেরকে সাজেস্ট করল আমরা যেন গুগলের দেখানো রাস্তায় না হেঁটে দার্জিলিং এর একটি পাড়ার ভেতর দিয়ে হেঁটে যাই।  অনেক তাড়াতাড়ি চলে যেতে পারবো। সেখানে আবার বৃষ্টি শুরু হল। আরো প্রায় 30 মিনিট আমাদেরকে একটি বাড়ির সামনে অপেক্ষা করতে হলো। তবে দার্জিলিংয়ের গ্রামের ভিতর দিয়ে হাঁটতে খারাপ লাগে নাই। অনেক ভালো একটি অভিজ্ঞতা হয়েছে। হ্যাপি ভ্যালি টেস্টের গেলাম 100 রুপি দিয়ে টিকিট কাটলাম। একজন গাইড সম্পূর্ণ কারখানাটি ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখালো।  কিভাবে চারা তৈরি করা হয় তাও দেখালো। বিভিন্ন রকমের চা এর ফ্লেভার টেস্ট করার সুযোগ দিলো। সেখান থেকে আবার হেঁটে ফিরলাম হোটেলে। হোটেলে ফেরার আগে নাস্তা সেরে নিলাম।

ম্যাপে 2 কিলো দেখালেও পাহাড়ি রাস্তায় হাঁটাহাঁটি করতে খবর হয়ে গেল। এর মধ্যে কিম রেডি হয়ে চলে এসেছে এখন আমাদের দার্জিলিং রেল স্টেশনে যাওয়ার পালা।

হিমালয়ান রেল স্টেশনে টয়ট্রেন দাঁড়ানো ছিলো। যাদের হাতে সময় আছে তারা শিলিগুড়ি থেকে টয় ট্রেনে করে দার্জিলিং আসে। ব্যাপারটা অনেক উপভোগ্য। সামনে কখনো দার্জিলিং আসলে আমার ট্রেনে উঠার ইচ্ছা আছে। এই ট্রেনটি আসলে মিটারগেজ থেকেও অনেক ছোট। দেখতে অনেকটা খেলনা ট্রেনের মতো মনে হয়। সেখানে আমরা কিছুক্ষণ ছবি তুললাম গল্প করলাম।

ফিরে এসে দুপুরের খাওয়া খেলাম মুসলিম হোটেলে। এরপর বের হলাম। গুগল ম্যাপে দেখে সিনেমা হলে গেলাম। বাহুবলির টিকিট কাটলাম।  বাহুবলী টু মুভি দেখতে বসে গেলাম। হোয়েক আর কিম বাহুবলি মুভিটার প্রথম পর্ব দেখেনাই। তাই তারা সিনেমার আগামাথা অনেক কিছুই বুঝে নাই।

তবে হোয়েক বললো বাহুবলীর স্টাইল তার কাছে ভালো লেগেছে। সেও লম্বা ঘন চুল রাখতে চায়। দক্ষিণ কোরিয়ায় গিয়ে তারা বাহুবলী প্রথম পর্ব দেখবে বলে জানালো। মুভি শেষ করতে সন্ধ্যা হয়ে গেল। এরপর আমরা মল রোডে এসে ঘুরাঘুরি করতে লাগলাম। সকল ধরনের স্ট্রীট ফুড খেতে লাগলাম। যত রকমের মমো আছে সবগুলোই ট্রাই করলাম। ফ্রাইড মমো, চিকেন মমো, ভেজিটেবল মমো, নাগা মমো (অনেক ঝাল ছিল) ডিম দিয়ে বানানো স্যান্ডউইচের মতো স্থানীয় খেলাম।

এরপর জিপি স্ট্যান্ডে গিয়ে আমরা একটি জিপ ঠিক করে নিলাম আগামীকাল সকালে কাঞ্চনজঙ্ঘা চুড়া দেখার জন্য টাইগার হিলে যাব। জিপের ড্রাইভার আগামীকাল সকালে সাড়ে তিনটায় আমাদেরকে হোটেলে ঘুম থেকে উঠিয়ে দিবে বলল। আজকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার জন্য টাইগার হিলে সকালে যেতে পারিনি বলে আমাদের অনেক লাভ হয়েছে। আজকে নাকি সকালে যারা গিয়েছিল কুয়াশার এবং মেঘের জন্য কাঞ্চনজঙ্ঘার চূড়া দেখতে পারে নাই। আমরা সবাই খুশি হলাম যে সকালটা মাটি হয় নাই।

কাঞ্চনজঙ্ঘার চূড়া টা দেখতে পাওয়াটা অনেক ভাগ্যের ব্যাপার। বছরে 365 দিনের মধ্যে শুধুমাত্র ৬০ কি ৭০ দিন কাঞ্চনজঙ্ঘার চূড়া টাইগার হিল থেকে দেখা যায়। আমাদের ভাগ্য ভালো হলে আগামীকাল সকালে আমরা টাইগার হিলে গিয়ে কাঞ্চনজঙ্ঘার চূড়া দেখতে পারবো। টাইগার হিল থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার পর ঘুম মনেস্ট্রি এবং বাতাসিয়া লুপ ঘুরিয়ে নিয়ে আসবে একটি চুক্তি হলো। ড্রাইভার এর মোবাইল নম্বর নিলাম। গাড়ির ছবি তুলে রাখলাম নম্বর রেখে দিলাম। প্রতি জন ১৫০ রুপি করে ভাড়া নিল। তাড়াতাড়ি হোটেলে চলে গেলাম। দেরি করে ঘুমালে আবার আগামীকাল সকালে উঠতে সমস্যা হবে।

visit my Youtube

ভারতে প্রথম দিন
ভারত ভ্রমন দ্বিতীয় দিন ।ফেয়ারলি প্লেস থেকে টিকিট কাটা।
কোলকাতা থেকে দার্জেলিং ভ্রমণ। ভারতে তৃতীয়দিন।


Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

One Reply to “ভারতে ৪র্থ দিন দার্জেলিং চা বাগান – হিমালয়ান রেল”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *