বাস ভ্রমণ। বাংলাদেশের সবচেয়ে লম্বা বাস জার্নির অভিজ্ঞতা।

বাস
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাস নিয়ে একটি কৌতুক দিয়ে এই লেখাটা শুরু করি।

একবার এক বাসের দুইজন নারী ঝগড়া করছিলেন কেননা সেখানে সিট ছিলো শুধুমাত্র একটি কিন্তু দুজনই খালি সিটে বসা নিয়ে ঝগড়া করছেন। সেই সময়ই বাসের কন্ডাক্টর এলো। কন্ডাক্টর এসেই সমস্যার কথা জিজ্ঞেস করলো ।

সমস্যার কথা শুনে তার মাথায় একটু বুদ্ধি আসলো। কন্টাকটার বলল আপনাদের মধ্যে যিনি বয়সে বড় তিনি এই সিটে বসে যাবেন । আর যিনি বয়সে ছোট তিনি দাঁড়িয়ে যাবেন। এরপর ওই বাসে ওই দুজন নারীর মধ্যে কেউই আর কোন সিটে বসলো না। পুরো রাস্তাটাই তারা দাঁড়িয়ে নিজের গন্তব্যে চলে গেলো।

যেহেতু আমি প্রচুর ভ্রমণ করি, তাই যেকোনো ভ্রমণের সময় বাস জার্নি আমার কাছে খুবই উপভোগ্য হয়ে ওঠে।

আমাদের দেশে ভ্রমণের মাধ্যম চারটি। প্রথমত সড়ক পথে, দ্বিতীয়ত নৌপথে, তৃতীয়ত রেলপথে, চতুর্থ আকাশপথে।

তবে এই সকল মাধ্যমের মধ্যে বাসে ভ্রমনই আমার সবচেয়ে বেশি পছন্দের। কারণ হচ্ছে আমার বাসা থেকে বাসস্টপেজ টা খুবই কাছে।

আমাদের দেশে রেল পথে চলাচল করাটাও অনেকের কাছে খুবই জনপ্রিয়। কিন্তু আমার কাছে অতটা জনপ্রিয় নয় । কারণ আমার বাসা থেকে রেলস্টেশন অনেক দূরে।

এমনকি আমার বাবা সাবেক রেল কর্মকর্তা থাকার কারণে অনেক সময় রেলের কৌটায় ফ্রিতে কিছু টিকেট পাওয়া যেতো। তারপরও আমি রেলে কখনোই চড়তাম না। বাস ভ্রমনই আমার কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয়।

মাথায় হঠাৎ করে একদিন একটা প্রশ্ন আসলো যে, আমাদের দেশে বাস এর সর্বোচ্চ দূরত্বের কোন বাসরুট রয়েছে।

একটু খোঁজাখুঁজি করতেই পেলাম চট্টগ্রাম থেকে পঞ্চগড় রুটে যে বাসটি চলে, সেই বাসে সবচেয়ে বেশি দূরত্ব অতিক্রম করে। একটানা মোটামুটি 650 কিলোমিটারের মতো পাড়ি দিতে হয়।

অনেকদিন ধরেই মাথায় ঘুরছিলো চট্টগ্রাম থেকে পঞ্চগড়ের এই রুটটি পাড়ি দিতে হবে । অবশেষে একটি সুযোগে চলে আসলো এই রুটে চলাচল করার ।

আমি যে সময়ে এই রুটে চলাচল ভ্রমণ করছি সেই সময়টাতে শুধু মাত্র দুইটি বাস অপারেটর এর সার্ভিস দিয়ে থাকে একটি শ্যামলী পরিবহন আরেকটি হানিফ পরিবহন।

গন্তব্য শুরুঃ
মূলত আমার গন্তব্য ছিল ভারতের সিকিম। গন্তব্য বাংলাবান্ধা পোর্ট। ভিসা করিয়ে নির্দিষ্ট দিনে চট্টগ্রাম থেকে পঞ্চগড়ের বাসে উঠি।

সিকিমে যাওয়ার পোর্ট বাংলাবান্ধা যেতে হলে আমাকে যেতে হবে তেতুলিয়া পর্যন্ত। তেতুলিয়া পর্যন্ত কোন বাস সার্ভিস নেই। পঞ্চগড় থেকে আলাদা গাড়িতে করে তেতুলিয়া যেতে হবে। পরিকল্পনা হচ্ছে তেতুলিয়া বাংলাবান্ধা পয়েন্ট দিয়ে ইমিগ্রেশন পার হওয়া।

যাত্রা শুরু
আমার যাত্রার তারিখ ছিল 14 ই মার্চ 2019 বিকাল 5 টায়। সেবার আমাদের ভ্রমন গ্রুপে আমি সহ সব মিলিয়ে আটজন বন্ধু ছিল আমার সাথে।

এই ভ্রমণে আমার সাথে মোটামুটি বেশ কয়েকজন বন্ধু থাকলেও প্রায়ই আমি দেশের বিভিন্ন জায়গায় একলা ঘুরতে বের হয়ে যাই।

একলা ঘুরতে বের হওয়ার কথা মনে আসতেই কয়েকদিন আগে একটি কৌতুক মনে পড়ে গেলো। যারা একলা বাসে জার্নি করেন তারা নাকি অনেকেই প্রথমে ভাবেন পাশের সিটটি কোন এক সুন্দরী মেয়ে এসে বসতে পারে। সত্যি বলতে কি আমারও প্রায়ই মাঝেমধ্যে এমনটা মনে হতো। কিন্তু কখনোই পাশের সিটে সুন্দরী কোন মেয়ের দেখা পেলাম না। এর কারণও আছে। কারণটা হচ্ছে আমি সবসময়ই নন এসি বাসে চলাচল করি । সুন্দরী মেয়েরা একলা জার্নি করলে সেফটি ইস্যুতে অবশ্যই এসি বাসে চলাচল করবে হা হা।

কিন্তু এসি বাসে আমার দম বন্ধ হয়ে আসে । কারণ সেখানে জানালা খোলার সুযোগ নেই। বাতাসের ঝাপটা গায়ে না লাগলে কেন জানি ভ্রমন উপভোগ হয়ে উঠেনা। আমি আবার কম খরচে ভ্রমণ শেষ করতে চাই । তাই এসি বাসে না উঠার এটাও একটা কারণ। সব মিলিয়ে নন এসি বাস চলাচল করাটাই আমি খুব বেশি উপভোগ করি।

যাহোক আমাদের যাত্রা শুরু হলো যাত্রা শুরু হওয়ার আগে বাস নিয়ে একটি রিভিউ দেয়া যাক।

ছোটবেলায় যখন কোন বাসে উঠতাম, শুধু খেয়াল করতাম আমার সিটটি জানালার পাশে আছে কিনা। জানালার পাশে থাকলেই খুশি। অন্য কিছু আর চাওয়া পাওয়া ছিল না। আস্তে আস্তে চাওয়া পাওয়ার লিস্টি বড় হতে লাগলো। এখন শুধু জানলা নয় , বাম পাশের জানালা আছে কিনা সেটা খেয়াল খেয়াল করি।

আবার সিটটি বাসের সামনের দিকে হচ্ছে কিনা সেটাও খেয়াল করি। বাসের ইঞ্জিন কেমন সেটাও খেয়াল করি। বাস নতুন নাকি পুরাতন সেটাও খেয়াল করি । আবার লেগ রেস্ট আছে কিনা সেটাও খেয়াল করি। বাসের ইনটেরিওর ডেকোরেশন কবে হয়েছে সেটাও খেয়াল করি।

বর্তমানে আমাদের বাংলাদেশে বাস নিয়ে অনেক বড় বড় ফেসবুক ফ্যান গ্রুপ আছে। যেখানে মেম্বার এর সংখ্যা কিছু কিছু গ্রুপে এক লাখের কাছাকাছি । বাস গ্রুপ ছাড়াও ট্রেন নিয়েও বিভিন্ন কমিউনিটি আছে আবার। নৌ জার্নি নিয়েও বেশ বড় কিছু গ্রুপ আছে । এই সব ফেসবুক গ্রুপে একটু চোখ বুলালেই মোটামুটি বাস ট্রেন এবং নৌযান সম্পর্কে অনেক কিছু জানা হয়ে যায়।

হানিফের AKIJ সিরিয়ালের গাড়িতে করে আমরা যাত্রা শুরু করলাম। এখন পাঠক অনেকেই চিন্তা করবেন AKIJ মোটরস তো কোন ধরনের বাস তৈরি করে না । তাহলে আকিজ সিরিয়ালের বাস কোত্থেকে এলো ??

এই ব্যাপারটা একটু মজার। আকিজ বলতে এখানে বোঝানো হয়েছে AK1j সিরিজের একটি বাস। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে AK1j সিরিজের বাস গুলি খুবই জনপ্রিয়, কারণটা হচ্ছে এটি খুবই ফুয়েল এফিশিয়েন্ট এবং অনেকদিন টিকে থাকে।

আমাদের দেশে এমন ও আছে AK1J সিরিজের একটি ইঞ্জিন দিয়ে মোটামুটি 25 বছর পর্যন্ত একটি বাস চলছে । মেজর কোন সার্ভিসিং ছাড়াই একটি নতুন গাড়ি মোটামুটি পনেরো বছর চলে যায় । মেইনটেনেন্স করে বাকি 10 বছর চালানো যায় । আমাদের দেশে যারা বাস মালিকরা আছে তারা এই বাসটি খুবই পছন্দ করে। বলা যায় বিনিয়োগের অনেকটাই মোটামুটি উঠে আসে।

আমাদের ড্রাইভার এর নাম ছিল শফিক মামা। এটি একটি ছদ্মনাম। কারণ আসল নাম বললে উনার বিরুদ্ধে বিভিন্ন বদনাম ছড়াতে পারে। তো যা হোক বিকাল পাঁচটায় যখন বাস জার্নি শুরু করি শুরুতেই ব্যাপক খেলাধুলা।

খেলাধুলা বলতে খুব স্পিডে যাচ্ছিলো এবং সাবধানে গাড়ি ওভারটেকিং করছিল এ ব্যাপারটা আমি খুব ইনজয় করি। আর যেহেতু অনেকটুকু পথ পাড়ি দিতে হবে শুরুতেই খুব ভালো স্পিডে গাড়ি না চালালে জার্নির সময়টা আরো বড় হবে । সেদিন ছিলো বৃহস্পতিবার। আমরা যখন জার্নি করি সেই সময় ঢাকা-চট্টগ্রাম রোডে প্রচুর জ্যাম লেগে থাকত। কারণটা হচ্ছে রাস্তাটা চার লেনের হলেও মেঘনা এবং কাঁচপুর সেতু দুই লেন। এখানে মেঘনা নদীতে দুটি সেতু এবং কাঁচপুরে একটি। টোটাল তিনটি সেতু পার হতে প্রচুর সময় লাগে লেগে যেত। আর বৃহস্পতিবার ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে যাত্রী চলাচল বেশি থাকার কারণে সড়কে বাস এবং অন্যান্য গাড়ির সংখ্যা বেশি থাকত। যার ফলে জ্যামটি ভয়াবহ আকারে রূপ নিত।

তবে আমাদের ভাগ্য ভাল ছিল আমাদের গাড়ির হেলপার এবং সুপারভাইজার সাহেব খুবই দক্ষ ছিলেন তারা গুগোল এ সার্চ দিয়ে রাস্তার আপডেট নিচ্ছিলেন।

এছাড়াও উনাদের পরিচিতি বিভিন্ন মানুষের সাথে কথা বলে রাস্তার সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। কুমিল্লা আসার পরে সুপারভাইজার সাহেব ঘোষণা করলেন গাড়ি কুমিল্লা থেকে ময়মনসিংহ রোডে উঠবে। কারণ সামনে প্রচুর জ্যাম ।

তবে এই ঘোষণার মধ্যে একটি অবাক করা কথা ছিল যে রাস্তা খারাপ থাকার কারণে গাড়ি অনেক ঝাকাঝাকি করবে কোন যাত্রী কোন ধরনের অভিযোগ করতে পারবেন না। তা না হলে গাড়ি নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছাতে অনেক দেরি হয়ে যাবে।

এই ঘটনাটি শোনার সাথে সাথে আমি কিছুটা পানি খেয়ে নিলাম। কারণটা ছিল আমার সিটটি ছিল প্রায় পিছের দিকে। আর পিছন দিকে সিট থাকার কারণে ঝক্কির পরিমাণটা আরো বেশি হবে। সবমিলিয়ে কুমিল্লা কিছুটা ক্রস করার পরেই দেখা গেল রাস্তা অনেক ভাঙ্গা এবং এই ভাঙ্গা রাস্তা দিয়ে যখন গাড়ি চলছিল কতক্ষণ পর পর নিজেকে শূন্যে আবিষ্কার করছিলাম। রাতে ঘুম খুব একটা ভালো হলো না।

বাসে অনেকেরই ভালো ঘুম হয় না ।কারণ আওয়াজ থাকে কিংবা গাড়ি হেলেদুলে ব্রেক করার কারণে অনেকের ভাল কোন একটা হয় না। কিন্তু বাসে আমার খুবই ভালো ঘুম হয় ।কারণ এটা অভ্যাস। প্রচুর জার্নি করার কারণে যে কোন জায়গায় , বাসে কিংবা ট্রেনে সহজে ঘুমিয়ে যাওয়াটা আমার অভ্যাস এ পরিণত হয়েছে।

লেখাটি লেখার সময় কেন জেনো বারবার বিভিন্ন বিষয় চলে যাচ্ছি।

আমাদের যাত্রাপথ মূলত 650 কিলোমিটার হলেও আমাকে পাড়ি দিতে হয়েছে 734 কিলোমিটার কারণটা হচ্ছে মেঘনা সেতু এলাকায় যানজট থাকার কারণে গাড়িটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া ভৈরব ব্রিজ হয়ে নরসিংদী দিয়ে ঘুরে গিয়েছিলো। আবার বঙ্গবন্ধু সেতু পার হওয়ার পরে দেখা গেল যে সিরাজগঞ্জেও জ্যাম রয়েছে সেজন্য গাড়িটি তাড়াশ উপজেলার ভেতর দিয়ে সিংড়া তে গিয়ে এর পর বগুড়াতে মিলিত হয়েছিলো সব মিলিয়ে ড্রাইভার এবং হেলপারের বিচক্ষণতার কারনে আমাদেরকে দীর্ঘ যানজটের মধ্যে পড়তে হয়নি ।

এইজন্য আমি এবং আমাদের সাথে থাকা সকল বন্ধু ড্রাইভার এবং হেল্পারকে আলাদা ভাবে ধন্যবাদ দিয়েছিলাম। বিকাল 5 টায় শুরু করে পরের দিন প্রায় দুপুর 1 টায় আমরা পঞ্চগড় পৌঁছেছিলাম।

পঞ্চগড় থেকে তেতুলিয়ার জন্য আলাদা একটি মাইক্রো ঠিক করে বর্ডার এলাকায় আমাদের যেতে হয়েছিল । একটু বেশি তাড়াহুড়া ছিলাম। কারণ আমাদের কাছে তথ্য ছিল যে বিকেল চারটার পর আর ইমিগ্রেশন এর কাজ করা যাবে না। আবার ভারতীয় বর্ডার পার হয়েও অন্য একটি গাড়ি নিয়ে গ্যাংটক । আমাদের উদ্দেশ্য ছিল গ্যাংটক এবং সিকিমে যাওয়া। গ্যাংটক সিকিম নিয়ে আমি আলাদা লেখা লিখব সেটি অন্য একটি লেখা থাকবে।

এই রুটে চলার সময় একটি জিনিস খুব ভালোভাবে অনুভব করছিলাম যে পঞ্চগড় রুটে ঢাকা থেকে কিংবা চট্টগ্রাম থেকে যে সকল গাড়ি যায় তা তেতুলিয়া পর্যন্ত যাওয়া উচিত। কারণ বর্তমানে ফুলবাড়ি বর্ডার খুলে দেয়ার ফলে প্রচুর যাত্রী ভারতীয় ইমিগ্রেশন পার হওয়ার জন্য বাংলাবান্ধা পোর্ট ব্যবহার করে। যাত্রীদের এ ব্যাপারে অনেক সুবিধা হবে বলে আমার মনে হয় । বাস অপারেটররা এই বিষয়টি বিবেচনা করবেন। পঞ্চগড় থেকে তেতুলিয়া দূরত্ব প্রায় 55 কিলোমিটার এই রুটে ও কিছু বাস সার্ভিস আছে, সেগুলো লোকাল। অনেক সময় নেয়। আমরা আটজন ছিলাম বিধায় একটি ছোট মাইক্রো ভাড়া করে পঞ্চগড় থেকে তেতুলিয়া গিয়েছিলাম।

আবার বাস জার্নির ব্যাপারে চলে আসি। বাস জার্নির আরেকটি মজাদার ব্যাপার হচ্ছে যাত্রা বিরতি।

এই যাত্রাবিরতির ব্যাপারটা আমার খুবই ভালো লাগে। চট্টগ্রাম থেকে উত্তরবঙ্গে যেকোন বাস রুটে দুইবার যাত্রা বিরতি দেয়। কুমিল্লায় সব সময় একটি যাত্রা বিরতি থাকে এটা স্বাভাবিক। উত্তরবঙ্গের দিকে কখনো সিরাজগঞ্জ আবার কখনো বগুড়া আবার কখনো শেরপুরে যাত্রা বিরতি দিয়ে থাকে। উত্তরবঙ্গের হোটেল গুলো তেমনটা ভালো না। এর আগে ওই এলাকার হোটেল গুলোতে গুলোর খাবার নিয়ে আমি বেশ সমস্যায় পড়েছিলাম।

প্রথমে আসি কুমিল্লার যাত্রা বিরতি নিয়ে, কুমিল্লায় আমাদের হোটেল নুরজাহান যাত্রা বিরতি দিয়েছিল। ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে কুমিল্লার হোটেল গুলোর গলাকাটা দাম নিয়ে প্রায়ই বিভিন্ন মিডিয়ায় লেখালেখি হয়। বিভিন্ন সময় দেখলাম কুমিল্লার জেলা প্রশাসক আশ্বাস দিয়েছিলেন এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। কিন্তু আদতে কোন ব্যবস্থাই চোখে পরলো না। যেনতেন খাবার দিয়ে গলাকাটা মূল্য রাখা হয়।

আরো একটা ব্যাপার কুমিল্লা ক্রস করার সময় রাস্তার দুই ধারে প্রচুর মাতৃভান্ডার মিষ্টির দোকানে পাওয়া যায়। একই নামে এতগুলো মিষ্টির দোকান বাংলাদেশের কোন এলাকায় নেই। ব্যাপারটা কেন যেন আমার বাটপারি মনে হয়। একটা ভালো ব্র্যান্ড কে নষ্ট করে ছাড়লো ওই এলাকার মানুষজন। আমার এই কথায় কুমিল্লার লোকজন আশাকরি ব্যথিত হবেন না। এটি একান্তই আমার নিজস্ব মতামত । আশাকরি পজিটিভলি দেখবেন। আমাদের সকল বাস যাত্রী এবং জনগণের এগিয়ে আসা উচিত এই সকল সমস্যা মোকাবেলায়।

যেহেতু আমাদের গাড়িটি সিরাজগঞ্জের বাইপাস দিয়ে ঢুকে ছিল, বগুড়ায় আমরা যাত্রা বিরতি পেলাম। যে হোটেলে আমরা যাত্রাবিরতি পেলাম তার নাম মনে নেই। মন নেই বলতে, আসলে সেই হোটেলে কোন নাম ছিল না। যেন তেন রকমের একটি হোটেল একটি হোটেল বললে ভুল হবে সেখানে একগুচ্ছ খাবারের দোকান ছিল।

বগুড়ার শাহজাহানপুর এর কোন এক জায়গায় সেই হোটেল গুলো ছিল। কোনরকম খিচুড়ি খেয়ে আমরা সকালের নাস্তা সেরে নিয়েছিলাম। সবচেয়ে মজার ব্যাপার কি সেই খিচুড়ির সাথে ডিম ভাজি ও ছিল না ছিল না। কোন ধরনের সবজি ছিল না । শুধু খিচুড়ি।

এই টাইপের হোটেলে খাওয়ার জন্য আমার ভ্রমণ সঙ্গীরা প্রস্তুত ছিল না, তবে কেন জানি আমি উপভোগ করেছিলাম। তবে বগুড়ায় যাত্রাবিরতির একটি বাড়তি পাওনা ছিল বগুড়ার দই খেতে পারাটা। এক হাড়ি দই নিয়ে আমরা আটজন ভাগ করে খেলাম বগুড়ার দই নিয়ে বরাবরের মতোই আমার একটি আলাদা দুর্বলতা ছিল আছে থাকবে।

ড্রাইভার এর ধৈর্য

চট্টগ্রাম থেকে উত্তরবঙ্গের যেকোনো বাসে আসার সময় আমি সবসময় খেয়াল করি যে একজন মাত্র ড্রাইভার পুরো ট্রিপ গাড়ি চালায়। আমাদের গাড়িটি প্রায় 18 ঘন্টা ভ্রমণ করেছিল এই পুরো পথটি একজন ড্রাইভার ড্রাইভ করেছিলেন। ব্যাপারটা ভাবতে কেমন অবাক লাগে।

18 ঘন্টা একটি ড্রাইভিং সিটে বসে একজন ড্রাইভার ড্রাইভ করছেন একটু অমানবিক ও বটে। শুনেছি এরকম বাসের ক্ষেত্রে দুজন ড্রাইভার রাখার নিয়ম। একটু নেটে ঘাটাঘাটি করে দেখলাম 10 ঘণ্টার বেশি কোন ভাবে একজন ড্রাইভার ড্রাইভ করা উচিত না।

কিন্তু আমাদের দেশে সেটা হয় আমাদের গাড়ির ড্রাইভার ঠাকুরগাঁও এলাকায় এসে ড্রাইভার পরিবর্তন করেছিল। তাও প্রায় 17 ঘণ্টা। পরে শুনলাম পরের দিন 5 ঘন্টা রেস্ট নিয়ে তাকে আবার অন্য একটি বাস নিয়ে চট্টগ্রাম আসতে হবে।

সেখানেও প্রায় 17-18 ঘন্টার জার্নি। এটা কি ভাবা যায়? এতটা সময় নিয়ে ড্রাইভ করাটা আমার কাছে অতি মানবীয় বলেই মনে হয় অনেকটা গিনেজ বুকে রেকর্ড করার মতোই। তবে সেই রেকর্ডে খুশি হবার কিছু নেই।

আরও পড়তে পারেন…

#ভারতে প্রথম দিন

ভারত ভ্রমন দ্বিতীয় দিন ।ফেয়ারলি প্লেস থেকে টিকিট কাটা।

কোলকাতা থেকে দার্জেলিং ভ্রমণ। ভারতে তৃতীয়দিন।

ভারতীয় ইমিগ্রেশনে যা খেয়াল রাখবেন

ফেয়ারলি প্লেস। ট্রাভেল কৌটায় ভারতের ট্রেনের টিকেট সংগ্রহের স্থান

Riad Vlog আমার ইউটিউব চ্যানেল

Facebook profile

ই-মেইল riadacca@gmail.com


Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *