দার্জেলিং ভ্রমণ এর শেষ দিন। ভারতের পঞ্চম দিন।

দার্জেলিং ভ্রমণ
Spread the love
  • 55
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    55
    Shares

আজ আমার ভারত ভ্রমণের পঞ্চম দিন। দার্জেলিং ভ্রমণ এর শেষ দিন। আজকে ঘোরাঘুরি শেষে শিলিগুড়ি চলে যেতে হবে। নিউ জলপাইগুড়ি রেল স্টেশন থেকে কলকাতা যাওয়ার ট্রেনের টিকেট আগেই কেটে রেখেছিলাম। তাই আজ দুপুরের মধ্যে দার্জিলিংয়ের ঘোরাঘুরি শেষ করে ফেলতে হবে।

রাত আটটায় নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন থেকে আমার ট্রেন ছেড়ে যাবে। আমার অপর দুই কোরিয়ান বন্ধু আজকে আমার থেকে বিদায় নিবে। হোয়েক এর প্ল্যান হচ্ছে সে নেপালে যাবে। অন্নপূর্ণা বেস ক্যাম্প এর দিকে। যেটাকে সহজে এবিসি ক্যাম্প বলা হয়।

আরেক কোরিয়ান বন্ধু কিম, আজকের দার্জিলিং থেকে কলকাতা যাবে বাসে। কিমের বাস শিলিগুড়ি থেকে সন্ধ্যা 6 টায় কলকাতার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে। ঠিক করলাম, সকাল থেকে আমরা ঘোরাঘুরি করব। দুপুর দুইটায় মল রোডে হোয়েক এর কাছ থেকে বিদায় নিব ।হোয়েক নেপালের উদ্দেশ্যে রওনা দিবে। আমি আর কিম একসাথে দার্জিলিং থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত জিপে চলে যাব।

ভোর 3 টা 30 মিনিটে ঘুম ভাঙলো। গতকাল আমরা দেরিতে ঘুম থেকে উঠার কারণে টাইগার হিলে যেতে পারিনি। কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা মিস হয়েছিল গতকাল। আজকে হোটেল এর ম্যানাজার আমাদেরকে উঠিয়ে দিলো। এছাড়াও আগের দিন রাতে যে জীপ ডাইভারের সাথে কথা বলে রেখেছিলাম সেও ফোন দিল। রাতে খুব একটা ভালো ঘুম হয় নাই। কারণ দেরিতে ঘুমাতে গিয়েছিলাম।

কোরিয়ান বন্ধু হোয়েক খুব গভীর ঘুম দিচ্ছিলো। তাকে ঘুম থেকে জেগে উঠালাম। আমি আর হোয়েক ছাড়াও জিপে আরো চারজন পেসেনজার উঠেছে। আজকে সঠিক সময়ে রওনা দিলাম। দার্জিলিং জিপ স্ট্যান্ডে সেই ভোর চারটায় অনেক ভিড়। অনেক মানুষই কাঞ্চনজঙ্ঘা এর চূড়া দেখার জন্য খুব ভোরে টাইগার হিলে যায়। এটি একটি ঐতিহ্য।

জিপে করে টাইগার হিল যাওয়ার পথে কুরিয়ান বন্ধু হোয়েককে জিজ্ঞেস করলাম রাতে ঘুম কেমন হয়েছে। সে বলল রাতে নাকি দুঃস্বপ্ন দেখে ছিল। আগের দিন আমরা বাহুবলি- 2 মুভি দেখেছিলাম। সেখানে বাহুবলী দেবসিনা কে বিরক্ত করার জন্য একটা তলোয়ার দিয়ে একজনের গর্দান কেটে দিয়েছিল। রাতে নাকি বাহুবলি এসে হোয়েকের গর্দান কেটে দিতে চেয়েছিল।

কাঞ্চনজংগা নিয়ে বিস্তারিত আমার একটি লেখা আছে।

 

দার্জেলিং ভ্রমণ

আমাদের ভাগ্য ভালো যে কাঞ্চনজঙ্ঘা খুব পরিষ্কারভাবে দেখতে পেয়েছিলাম। আমরা আসলেই খুবই সৌভাগ্যবান।

কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা শেষে ঘুম মনেস্ট্রি গেলাম। কাঞ্চনজঙ্ঘা,ঘুমমনেস্ট্রি, বাতাসিয়া লুপ এই তিনটি জায়গা ঘুরিয়ে নিয়ে আসবে, এই প্যাকেজটি জিপ ভাড়া করার সময় নিয়েছিলাম।

যেটি প্রথমে কাঞ্চনজঙ্ঘা চূড়া দেখাবে, এরপর ঘুম মনেস্ট্রি নিয়ে যাবে, এরপর বাতাসা লুপ ঘুরিয়ে সকাল আটটার মধ্যে দার্জিলিং মল রোডে নামিয়ে দেবে।

খুব সুন্দর ভাবে পর্যটনকে তারা গুছিয়ে নিয়েছে। খেয়াল করলাম এই জিপ সকালে একটা ট্রিপ দিয়ে, আবার শিলিগুড়ি যায়। শিলিগুড়ি থেকে আবার পর্যটক নিয়ে দার্জিলিংয়ের চলে আসে। খুব ভালো ইনকাম হয়।

আমি আগেই বলেছি টাইগার হিল থেকে যেহেতু কাঞ্চনজঙ্ঘা চূড়াটি অনেক দূর। অনেক সময় কাঞ্চনজঙ্ঘা মেঘের এবং কুয়াশার কারণে দেখা যায় না। সে ক্ষেত্রে পর্যটকদের অনেকেরই মন খারাপ হতে পারে। তাই তারা কাঞ্চনজংগা চুড়া দেখিয়ে এরপর ঘুম মনেস্ট্রি ঘুরিয়ে নিয়ে আসে। এতে করে পর্যটকরা কিছুটা খুশি হয়। দুই-একটা টুরিস্ট প্লেস দেখা গেল।

ঘুম মনস্ট্রিতে আসলে তেমন কিছু নেই। ঐতিহাসিকভাবে এটি খুব একটা পুরনো বুদ্ধমন্দির নয়। একসময় এটিকে সেনাক্যাম্প হিসেবে ব্যবহার করা হতো। এরপর এটিকে বৌদ্ধ উপাসনালয় হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে।

ঘুম মনেস্ট্রি

যেহেতু সকাল সাড়ে 3 টায় উঠে টাইগার হিলে চলে আসলাম কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার জন্য, সকালের নাস্তা করা হয়নি।

ঘুম মনেস্ট্রির সামনে পরোটা এবং ডাল বিক্রি হচ্ছিল। খুব সুন্দর আইডিয়া। তারা জানে যে সকালে যারা কাঞ্চনজঙ্ঘা যায় এত সকালে কোন হোটেল খোলা থাকবে না। এবং টাইগার হিল থেকে ঘুরে আসার পথে কোন হোটেল নাই। ঘুম মনেস্ট্রির সামনে নাস্তা করে নিলাম।

টাইগার হিল থেকে ঘুম মনেস্ট্রির আসার সময় প্রাণ কোম্পানির প্রাণ ডালের একটা বিলবোর্ড চোখে পড়ল। ব্যাপারটা নিজের কাছে অনেক ভালো লাগলো। দার্জিলিংয়ের এত ভিতরে বাংলাদেশের একটা কোম্পানির এ্যড দেখলাম , নিজে থেকেই কেন জানি ভালো লাগা শুরু করলো। আসলে দেশের যে কোন কোম্পানির উন্নতি চোখে পড়লে নিজ থেকেই ভালো লাগে। এই ভালোলাগাটা অন্যরকম। আমাদের দেশের একটা কোম্পানি বিভিন্ন দেশে গিয়ে ব্যবসা করছে, মেড ইন বাংলাদেশ প্রমোট করছে, সেটা অবশ্যই ভালোলাগার।

ঘুম মনেস্ট্রিতে বিশাল বুদ্ধ মন্দির আছে। বুদ্ধ রা কেন জানি তাদের উপাসনালয় কে টুরিস্ট স্পট হিসেবে প্রমোট করে। আমাদের বাংলাদেশেও বুদ্ধ মন্দির গুলো ট্যুরিজম স্পট হিসেবে জানানো হয়। ভুটান ও একই অবস্থা। বুদ্ধ মন্দির গুলো তো সবগুলোই একই রকম। বুদ্ধ মন্দির কোনটা কত ফিট উঁচু সেটা নিয়েই ট্যুরিজম স্পটগুলো প্রমোট করা হয়।

আমাদের দেশে বড় বড় উচু পাহাড় গুলো তো বুদ্ধ মন্দির গুলো স্থাপন করা হচ্ছে। সেবার মায়েরা সন্তানের এত উপরে গিয়ে দেখলাম বুদ্ধমন্দির করা হচ্ছে। ভারতীয়রা কি অবস্থা। উচু উচু পাহাড় গুলোতে সাধারণত বিভিন্ন দেবদেবীর মূর্তি স্থাপন করা হয়ে থাকে। মুসলিমরা তেমন একটা করে না। মুসলিমরা উপাসনালয়ে করে ঘনবসতি দেখে দেখে। যাহোক ধর্মীয় ব্যাপার নিয়ে বিভিন্ন চিন্তা মাথায় আসে আমি যেহেতু খুব বেশি আকারে ধর্ম প্র্যাকটিস করি না সে বিষয়ে কথা না বলাই ভালো।

পৃথিবীর সকল দেশের সকল ধর্মের মানুষ একসাথে থাকুক সেটাই আমার আশা।

ঢং ঢং আওয়াজ করে তারা বুদ্ধ পূজা করছিল। এরপর চলে গেলাম বাতাসিয়া লুপ। এটি ইউনেস্কো ঘোষিত একটি ঐতিহ্য স্থান। বাতাসিয়া লুপ টা ঘুরে দেখার মত তেমন কিছু নেই। ছোট্ট একটি টয়ট্রেন ঘুরে যাবার রাস্তা আছে। বাতাসিয়া লুপ থেকেও কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায়। তবে বাতাসিয়া লুপে অনেকেই বাইনোকুলার নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। 40 থেকে 60 রুপী খরচে দুরের জিনিস দেখায়।  যার থেকে যেমন পারে নেয়। বাতাসিয়া লুপ এ যারা বাইনোকুলার নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে তারা বিভিন্ন স্পট দেখায়। আশেপাশে পাহাড় গুলোর নাম কি কি সেটা বলে দেয়।

দার্জিলিং এর আশপাশে বিভিন্ন মুভি শুটিং হয়েছিল সেই স্পটগুলো বাইনোকুলার দিয়ে দেখিয়ে দেয়। ব্যাপারটা খুব দ্রুত করে। যত তাড়াতাড়ি দেখিয়ে শেষ করতে পারে ততো তাড়াতাড়ি তাদের জন্য মঙ্গল। অন্য একটি কাস্টমার ধরতে পারবে। আমি বাইনোকুলারের চোখ রাখি নাই। তাদের এক্টিভিটিস দেখেই মজা পাচ্ছিলাম। আমার কথা হচ্ছে খালি চোখে যা দেখবো তা দেখেই শান্তি। বাইনোকুলারে একটু জুম করে দেখার মানে কি সেটাই বুঝলাম না। দার্জিলিং এ যে কয়েকটা ভারতীয় মুভির শুটিং হয়েছিল সেগুলোর নাম তারা বলে যাচ্ছিল আমি একটা মুভিও ধরতে পারছিলাম না। কারণ আমি খুব একটা মুভি দেখি না। হঠাৎ কোন মুভি হিট হলে সেটি অনলাইনে দেখে নেই। শুধুমাত্র বারফি মুভিটার কথা আমার কানে বেজে ছিল। রণবীর কাপুর কোন কোন জায়গায় শুটিং করেছিল তা বাইনোকুলার দিয়ে দেখিয়ে দেয়া হচ্ছে। ভারতীয়রা খুব আনন্দের সাথে সেগুলো দেখছিল।

দার্জেলিং ভ্রমণ

এর একটু দূরেই বিভিন্ন উপজাতীয়দের পোশাক ভাড়া দেয়া হচ্ছিল। সাধারণত বিভিন্ন দম্পতিরা সকল পোশাক পড়ে ছবি তুলছিলেন। বাচ্চাদের জন্য ছোট ছোট পোশাক ভাড়া পাওয়া যায়। উপজাতীয়দের পোশাক পরে ছবি তুলে তারা মজা পাচ্ছিলেন। আমি সিঙ্গেল মানুষ। পাশে বউ থাকলে উপজাতীয়দের পোশাক পরে বউয়ের সাথে একটা ছবি তুললে খারাপ হত না। এগুলো ভেবে ভেবে হেঁটে যাচ্ছিলাম। এরমধ্যে ভাবছিলাম উপজাতীয়দের পোশাক পরে বউ জামাই ঝগড়া করছে। আমাদের দেশের উপজাতীয়রা সাধারণত সাথে সবসময় কাস্তে বা দা টাইপের কিছু রাখে। কি সব উদ্ভট চিন্তাভাবনা করছিলাম। থাক বাবা সিঙ্গেল আছি ভালো আছি। পাগলের সুখ মনে মনে।

আমাদের জিপে দুই জন দম্পতি ছিল। তারা পোশাক পড়ার জন্য বুকিং দিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। বাতাসিয়া লুপ এ খুব বেশিক্ষণ সময় দেওয়ার মতো কিছু নেই । ছবি তোলা ঘোরাঘুরি করা, এইতো। আমি জিপের কাছাকাছি চলে আসলাম। জিপের ড্রাইভার তাড়াহুড়া দেখাচ্ছিলো। যারা ছবি তোলার জন্য দেরি করছিল ড্রাইভার সাহেব তাদের প্রতি বিরক্ত। আমি ড্রাইভার সাহেবকে বললাম এমন সুযোগ সব সময় পাবে না একটু সময় দিন। ড্রাইভার সাহেব বললো পাহাড়ি বিভিন্ন গ্রুপে একটু ঝামেলা হচ্ছে তিনি শিলিগুড়ি চলে যাবেন খুব দ্রুত। আজকে বিকেলে কিংবা আগামীকাল দার্জিলিঙে হরতাল হতে পারে।

এই কথা শুনে আমিও একটু পুলকিত অনুভব করলাম। কারন আমার ট্রেন শিলিগুড়ি থেকে রাত আটটায় ছেড়ে যাবে কলকাতায়। আমার প্ল্যান ছিল দুপুর দুইটায় শিলিগুড়ি উদ্দেশ্যে রওনা দেব। তাকে জিজ্ঞেস করলাম খুব বেশি সমস্যা হবে কিনা। ড্রাইভার সাহেব বললো বিকেলের আগে যেন শিলিগুড়ি চলে যাই।

কেন্দ্রীয় সরকার এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সাথে পাহাড়িদের প্রায়ই ঝামেলা হয়ে থাকে। পাহাড়িরা সবসময়ই নিজস্ব সরকার কিংবা প্রশাসনিক ভাবে তারা আলাদা থাকতে চায়।

যাহোক বাতাসিয়া লুপ থেকে আবার মল রোডে চলে আসলাম। জিপ ড্রাইভার কে বিদায় দিলাম। তখন বেলা 9 টা বাজে।

হোটেলে এসে চেক আউট করে নিলাম। কারন ১০ টার মধ্যে যদি রুম খালি করে না দেই তাহলে সে দিনের হোটেল এর ভাড়া আবার দিতে হবে। চেক আউট করে ব্যাকপ্যাক হোটেল এর লকারে রেখে দিলাম । লকারে ব্যাগ রাখার জন্য কোন ফি দিতে হলো না। ব্যাগ লকারে রাখার কারন হচ্ছে এতো বড় ব্যাগ নিয়ে দার্জিলিং এর পাহাড়ে ঘুরলে সহজেই টায়ার্ড হয়ে যাবো।

এবার যাবো হিমালায়ান মাউন্টারিং ইন্সটিটিউট, আর হিমালায়ান জুওলুজিকাল পার্ক। হাতে সময় আছে ৪ ঘ্নটা।

আমি আর কোরিয়ান বন্ধু হোয়েক হাঁটা ধরলাম গুগল ম্যাপ দেখে। আগের দিন দার্জেলিং এর বিখ্যাত হ্যপি ভ্যলি টি স্টেট হাটতে গিয়ে খবর হয়ে গিয়েছিলো। আজ আগে থেকে দেখে নিলাম হিমালায়ান মাউন্টারিং ইন্সটিটিউট এবং আর হিমালায়ান জুওলুজিকাল পার্ক হাঁটা পথে কতটুকু দূর। দেখলাম দুইটিই পাশাপাশি জায়গায় অবস্থিত।

হিমালায়ান মাউন্টারিং ইন্সটিটিউট এ রক ক্লাইম্বিং কোর্স করানো হয়। বড় বড় পাহাড়ে কিভাবে জয় করা যায় তা এখানে শেখানো হয়। অনেক ছাত্রছাত্রিদের প্রাক্টিক্যাল ক্লাস করতে দেখলাম সেখানে। কৃত্তিম পাহাড় করা আছে সেখানে। অনেকে প্রাক্টিস করছে। একটা মিউজিয়াম আছে সেখানে। ঘুরে ঘুরে মিউজিয়াম দেখলাম। আগের দিনের পর্বত আরোহীরা কি কি সরঞ্জাম নিয়ে পাহাড় বাইতেন তা দেখে অবাক হলাম। প্রথম এভারস্ট সামিট করা স্যার এডমন্ড হিলারির কিছু জিনিস সেখানে দেখলাম। এই যুগে কতো আধুনিক সরঞ্জাম পাওয়া যায়। সেই যুগে তাদের ডেডিকেশন দেখে অবাক হলাম। এছাড়াও পাহাড় পর্বত যারা ভালোবাসেন, তারা এই জায়গা দেখে অনেক ভালো লাগবে। ঘুরে আসার মতো একটি জাদুঘর।

এর পাশেই হিমালায়ান জুওলুজিকাল পার্ক। কোরিয়ান বন্ধু হোয়েক এর চিড়িয়াখানা নিয়ে অনেক আগ্রহ। পাহাড়ি বিভিন্ন পশুপাখির ভালো সংগ্রহ এখানে। অনেক নতুন নতুন প্রানি দেখলাম। ভালোই আইডিয়া হলো। চিড়িয়াখানা ভালো লাগলেও আমি একে প্রমোট করতে চাই না। আমি সাফারি পার্ক সাপোর্ট করি। প্রানিরা খাচায় থাকবে সেটা ব্যক্তিগতভাবে আমার পছন্দ না। সাফারি পার্কে মানুষ খাচায় বন্দি হয়ে কিংবা নিরাপদ দুরুত্বে থেকে পশু প্রানি দেখবে সেটাই আমার কাছে ভালো মনে হয়। ঘুরতে ঘুরতে প্রায় সাড়ে বারোটা বেজে গেলো। এবার ফেরার পালা। হোটেলে ফিরে গোসল করে ফ্রেশ হয়ে নিলাম।

মল রোডে এবার কোরিয়ান বন্ধু হোয়েককে বিদায় দিলাম। সে দার্জেলিং থেকে কাকরভিটা যাবে। কাকরভিটা হচ্ছে নেপালের বর্ডার। আর আমি আর কিম শেয়ার্ড জিপ নিয়ে চলে আসলাম শিলিগুড়ি। শিলিগুড়ি এসে কোরিয়ান বন্ধু কিমকে বাস স্টান্ডে বিদায় দিলাম । আমি চলে গেলাম নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন। সেখান থেকে আমার রাতে ট্রেন। ট্রেনে কলকাতা আসলাম এর পরের দিন সকালে। নিউ মার্কেট থেকে কিছু কেনাকাটা সেরে হাওড়া স্টেশনে চলে এলাম। নিউ মার্কেট থেকে কম দামে বেশ কিছু চকলেট কিনলাম। অনেক পরিমানে এলাচি কিনলাম। এলাচি অনেক কম দামে ভারতে পাওয়া যায়। আম্মু সেই সুগন্ধি এলাচি পেয়ে অনেক খুশি। আত্মীয় স্বজনদের এলাচি বিতরণ হয়েছিল সেবার।  হাওড়া  থেকে বনগাঁ স্টেশন। বনগাঁ স্টেশন একদম বেনাপোল বর্ডারের কাছাকাছি। বর্ডারে ভারতীয় ইমিগ্রেশন আমার এলাচি রেখে দিয়েছিলো। তারা বললো এতো এলাচি নিয়ে যেতে হলে অনুমতি লাগবে। ১৫০ রুপী দিয়ে ভারতীয় দাদাদের খুশি করে দিলাম । তাতেই আমার এলাচি ছাড় পেলো।

ভারতে প্রথম দিন
ভারত ভ্রমন দ্বিতীয় দিন । ফেয়ারলি প্লেস থেকে টিকিট কাটা।
কোলকাতা থেকে দার্জেলিং ভ্রমণ। ভারতে তৃতীয়দিন।
ভারতে ৪র্থ দিন দার্জেলিং চা বাগান – হিমালয়ান রেল

আমার ইউটিউব চ্যানেলটি ঘুরে আসতে পারেন
Mahmudul Hoque Riad fb page:


Spread the love
  • 55
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    55
    Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *