কাঞ্চনজঙ্ঘা

কাঞ্চনজঙ্ঘা
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

যারা দার্জিলিং যায়, টাইগার হিল হয়ে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা টা তাদের জন্য মাস্ট একটা অপশন। দার্জিলিং এর মল রোড থেকে ভোর চারটায় কাঞ্চনজঙ্ঘার জিপ ছেড়ে যায়।

কাঞ্চনজঙ্ঘা হচ্ছে পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম পর্বত শৃঙ্গ। নেপাল ভারত বর্ডার এ অবস্থিত। টাইগার হিল পাহাড় থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা ভিউ সকালে দেখা যায়। আকাশ যদি পরিষ্কার থাকে তাহলে কাঞ্চনজঙ্ঘা আর পাশাপাশি এভারেস্ট দেখা যায় টাইগার হিল থেকে।

আমাদের বাংলাদেশের তেঁতুলিয়া থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায়। বাংলাদেশ থেকে কিংবা টাইগার হিল থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে হলে আপনাকে অবশ্যই সৌভাগ্যের অধিকারী হতে হবে।

বাংলাদেশের তেঁতুলিয়ায় শীতকালে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায়। অনেকেই নভেম্বর মাসে কাঞ্চনজংগা তেতুলিয়া থেকে স্পষ্ট দেখতে পান। সাধারণত নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশ থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায়।

আমাদের তেঁতুলিয়ায় একটা সমস্যা আছে। কোন ভালো হোটেল নাই। হরেন কোন একদিন পরিকল্পনা করে গেলেন বাংলাদেশ থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখবেন। কিন্তু সেখানে গিয়ে হোটোলে করতে পারলে ভালো হতো। সকালবেলায় কাঞ্চনজঙ্ঘার রূপ দেখতে অনন্য লাগে।

তবে আমি বাংলাদেশের তেঁতুলিয়া থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে যাইনি কখনো।

দার্জিলিং এ যাওয়ার পর প্রথম দিন শহরের মন রোডে ঘুরলাম। মল রোডের জিপ স্ট্যান্ড থেকে সকালে কাঞ্চনজঙ্ঘা যাওয়ার জিপ ছেড়ে যায়। দার্জিলিং শহরের টাইগার হিল পাহাড়ের উপর থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা সবচেয়ে সুন্দর দেখা যায়। খোঁজখবর নিয়ে দেখলাম টাইগার হিল এলাকায় তেমন ভালো কোন হোটেল নাই। থাকতে হলে দার্জিলিং শহরে থাকতে হবে। ভোরে রওনা দিয়ে টাইগার হিলে উঠতে হবে।

1850 সালের আগ পর্যন্ত কাঞ্চনজঙ্ঘা কে পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বত শৃঙ্গ বলে মনে করা হতো। পরে ভারতের এক জরিপে দেখা যায় যে মাউন্ট এভারেস্ট পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বত শৃঙ্গ। পৃথিবী গোল এবং দূরত্বের কারণে টাইগার হিল থেকে মাউন্ট এভারেস্টে কিছুটা ছোট মনে হয় কিন্তু কাঞ্চনজংগা কে মাউন্ট এভারেস্ট থেকে বড় মনে হয়। এটি শুধুমাত্র দেখার ভুল।

কাঞ্চনজঙ্ঘা নিয়ে অনেকেই বিভিন্ন ব্লগে লেখালেখি করেছিলেন। কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার জন্য টাইগার ভুলে গিয়ে অনেকেই ফেরত আসতে হয়েছিল। কুয়াশা থাকলে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায় না। আবার অনেক সময় মেঘেদের জন্য কাঞ্চনজংগা দেখা যায় না।

টাইগার হিল থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে চাইলে আপনাকে অবশ্যই ভাগ্যবান হতে হবে। একটা ডাটা দেই। টাইগার হিল থেকে 365 দিনে নাকি 300 দিনেই আকাশ কুয়াশাচ্ছন্ন কিংবা মেঘাচ্ছন্ন থাকে।

দার্জিলিং এর দ্বিতীয় দিন কাঞ্চনজংগা যাওয়ার পরিকল্পনা করি। সকালে ঘুম থেকে উঠতে দেরি হয়েছিল ভোর 4 টা 15 মিনিটে মল রোডে ট্যাক্সি স্ট্যান্ড এ গিয়ে দেখি কোন গাড়ি আর নেই। আমার কিছুক্ষণ পরে এক ব্রিটিশ ভদ্র লোক আসে। আমরা চেষ্টা করি টাইগার হিলে যাওয়ার জন্য। কিছুক্ষণ পরে এক ট্যাক্সি ড্রাইভারকে পেয়েও যাই। কিন্তু সে বলে এখন গিয়ে কোন লাভ হবেনা। তোমরা নিজ নিজ হোটেলের ফেরত চাও আগামীকাল আরো ভোরে আসতে হবে।

ভোর চারটায় স্ট্যান্ডে আসা মানে হচ্ছে যে ভোর 3 টা কিংবা 3:30 আপনাকে ঘুম থেকে উঠতে হবে রেডি হয়ে চারটার মধ্যে জিপ স্ট্যান্ডে আসতে হবে।


তবে কাঞ্চনজংগা যাওয়ার সময় আলাদা একটি প্যাকেজ আছে। আসার পথে ঘুম মনেস্ট্রি এবং বাতাসিয়া লুপ ঘুরে আসা যায়। একজন কিংবা দুজন থাকলে আগে থেকে ট্যাক্সি স্ট্যান্ডে গিয়ে কনফার্ম করে আসবেন। আমার সাথে আমার এক প্রিয় বন্ধু ছিল আমরা দুজন আগের থেকে ট্যাক্সি স্ট্যান্ডে গিয়ে কনফার্ম করে এসেছিলাম। এটার একটা সুবিধা আছে আগে থেকেই সিট বুকিং দিয়ে রাখা যায়। টেক্সি ড্রাইভার ভালো হলে অনেক সময় হোটেলে এসে ডেকে নিয়ে যায়। আমাদের ট্যাক্সি ড্রাইভার নিচ থেকে হোটেলের ম্যানেজারকে ফোন দিয়ে আমাদেরকে ঘুম থেকে উঠিয়ে দিয়েছিল।

5 মে 2017
পরের দিন সঠিক সময়ে টাইগার হিলে যাই। ভাগ্য ভালো থাকার কারণে খুব সুন্দর ভাবে কাঞ্চনজংগা সকালের সেই রূপ দেখার সৌভাগ্য হয়। ওই মুহূর্তটা আসলে ক্যামেরায় বন্দী করার মতো না। তাছাড়া আমি সেই দার্জিলিং ট্যুরে আমার ডিএসএলআর টি নিয়ে যাই নাই। এর আগের কলকাতা দূরে এত পরিমান ছবি তুলেছিলাম যে আসলে মোবাইলেও আর জায়গা ছিল না।

নিজের চোখে প্রথম এভারেস্টের চূড়া দেখতে পেলাম সেদিন। এটার অনুভূতিটাই অন্যরকম। শুনেছি এখন টাইগার হিলে নাকি তিন তলা বিল্ডিং এর কাজ চলছে। হত আরো বেশি দর্শনার্থী জায়গা করে দেওয়ার জন্য বিল্ডিংয়ের কাজ করছে। কিন্তু সেই জায়গাটা আসলেই চমৎকার ছিল। এখন কি অবস্থা তার জানা নেই।

টাইগার হলে আশেপাশের জায়গাটাতে পাইন গাছ দিয়ে ঘেরা। দার্জিলিং থেকে টাইগার হিলের রাস্তাটা উপভোগ করার মতো।

টাইগার হিল থেকে ঘুম মনেষ্ট্রি গেলাম সেটা একটি বৌদ্ধ বিহার। একটা জিনিস খেয়াল করলাম আমাদের দেশের মতো ভারতে বৌদ্ধ ধর্মের উপাসনালয় গুলোকে তারা পর্যটন স্পট হিসেবে প্রমোট করছে। 1850 সালের একটি বৌদ্ধবিহার।

বৌদ্ধ বিহারের ভিতরে একটি বুদ্ধের মূর্তি আছে। সামনে নাস্তা করতে পারবেন। খেয়াল করলাম সকালে সবাই চারটায় উঠে টাইগার হিলে চলে যায়। ঘুমোওনি স্ত্রীর সামনে হালকা নাস্তা করার ব্যবস্থা থাকে। এখানে 40 টাকায় সবাই নাস্তা করে নেয়। নাস্তা করতে দুই পিস পুরি আর অল্প একটু খানি ডাল। সেখানথেকে বাতাসিয়া লুপ।

তবে বাতাসিয়া লুপ দেখার মত। বাতাসিয়া লুপ দেখা শেষে সকাল আটটায় দার্জিলিং মলে জিপ নামিয়ে দিবে।

my facebook profile

 


Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *